পবিত্র হজের সফরে মৃত্যু যেকোনো মুমিনের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের এবং মর্যাদাপূর্ণ বিষয় বলে গণ্য করা হয়। হজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলিম আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পবিত্র মক্কায় সমবেত হন। এই পবিত্র সফরের কোনো এক পর্যায়ে যদি কোনো হাজি মৃত্যুবরণ করেন, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে তাকে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী বলা হয়েছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হজ অবস্থায় মৃত্যুর তাৎপর্য তুলে ধরা হলো।
১. ইহরাম অবস্থায় পুনরুত্থান
হজ বা উমরার সফরে থাকা অবস্থায় কেউ মৃত্যুবরণ করলে কেয়ামতের দিন তিনি এক বিশেষ মর্যাদায় পুনরুত্থিত হবেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, বিদায় হজের সময় এক সাহাবী আরাফাতের ময়দানে উটের পিঠ থেকে পড়ে মারা যান। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও এবং তার ইহরামের কাপড় দিয়েই তাকে কাফন পরাও… কেননা কেয়ামতের দিন সে ‘লাব্বাইক’ (তালবিয়া) পাঠ করতে করতে পুনরুত্থিত হবে।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
২. কেয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোনো ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার পর যদি পথেই তার মৃত্যু হয়, তবে আল্লাহ তাআলা কেয়ামত পর্যন্ত তার আমলনামায় হজের সওয়াব লিখতে থাকেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল রহমত।
৩. বিনা হিসাবে জান্নাত লাভের সম্ভাবনা
হজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো পাপমুক্ত হওয়া। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি হজ্জ করল এবং কোনো প্রকার অশ্লীল কাজ বা পাপে লিপ্ত হলো না, সে তার মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এল।” (বুখারী)। এমতাবস্থায় যদি কারও মৃত্যু হয়, তবে তিনি নিষ্পাপ অবস্থায় আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছান, যা জান্নাত লাভের পথকে সহজ করে দেয়।
৪. কাফন ও দাফনের বিশেষ বিধান
হজের ইহরাম থাকা অবস্থায় কেউ মারা গেলে তাকে সাধারণ মৃত ব্যক্তির মতো সুগন্ধি মাখানো হয় না এবং তার মাথা ঢাকা হয় না (পুরুষদের ক্ষেত্রে)। তার ইহরামের কাপড়টিই কাফন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা তার ইবাদতের সাক্ষী হয়ে থাকে।
৫. মক্কা-মদীনায় দাফনের মর্যাদা
পবিত্র হারামাইন শরিফাইনে (মক্কা বা মদিনা) মৃত্যুবরণ ও দাফন হওয়া বড় সৌভাগ্যের বিষয়। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মক্কা বা মদিনায় মৃত্যুবরণ করবে, কেয়ামতের দিন সে নিরাপদ অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তার জন্য বিশেষ সুপারিশ করবেন।
হজযাত্রীর মৃত্যু শোকের হলেও আধ্যাত্মিক দিক থেকে তা পরম পাওয়া। এটি একজন মুমিনের জন্য ‘হুসনে খাতেমা’ বা উত্তম পরিণতির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। আল্লাহর ঘরের মেহমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করা একজন মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ সার্থকতা।