বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পথ প্রশস্ত করছে তৃণমূল, তোপ রাহুল গান্ধীর ভারতে গোপনে ভিডিও করে মুসলিম নারীকে নিয়ে চরম বিদ্বেষ ছড়ালো হিন্দুত্ববাদীরা জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতি অচলে সেবা ব্যাহত, দুর্ভোগে লাখো রোগী গণভোটের রায় উপেক্ষা করে দেশকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার’ কৃষি ও কৃষকরাই অর্থনীতির মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী এনটিআরসির পরীক্ষা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী আন্দামান সাগরে নৌকা ডুবে বাংলাদেশিসহ ২৫০ অভিবাসী নিখোঁজ রঙে-ঐতিহ্যে প্রাণবন্ত বর্ষবরণ, ঝালকাঠিতে গ্রামবাংলার জীবন্ত শোভাযাত্রা চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মঞ্জুর বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক পর্যায়ক্রমে পাবে ‘কৃষক কার্ড’

পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে ইসলাম কী বলে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ—বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি বাঙালির দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক দিবস। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোগল আমলে খাজনা আদায় সহজ করতে ফসলি সনের প্রচলনের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। ফলে একে নিছক ধর্মীয় নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনে গড়ে ওঠা একটি সংস্কৃতি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

ইসলাম সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে না, বরং এমন সংস্কৃতিকে অনুমোদন দেয়, যা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে এবং ইসলামি আকিদা-বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। সুতরাং পহেলা বৈশাখ যদি শুধু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে— যেমন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, বৈধ আনন্দ-বিনোদন ইত্যাদি, তবে তা বৈধতার পরিসরের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু এর সঙ্গে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অপসংস্কৃতি বা শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড যুক্ত হলে তা অবশ্যই পরিহারযোগ্য।

পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রসঙ্গে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি বেশ সংবেদনশীল। যদি কেউ মনে করে, এই শোভাযাত্রা বা এর প্রতীকগুলো (যেমন—পেঁচা, বাঘ, মুখোশ ইত্যাদি) কোনো অদৃশ্য শক্তি দ্বারা মঙ্গল বয়ে আনে বা অমঙ্গল দূর করে, তাহলে তা ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থি। কারণ, ইসলামে মঙ্গল-অমঙ্গলের একমাত্র নির্ধারক আল্লাহ তাআলা। এর বিপরীত বিশ্বাস ইমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতি বা মুখোশ তৈরির বিষয়েও ইসলামে সতর্কতা রয়েছে। জীবন্ত প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে, বিশেষ করে যদি তা সম্মান প্রদর্শন বা বিশেষ অর্থ বহন করে। তাই এসব বিষয়ে মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিত এবং সন্দেহজনক বিষয় থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

সর্বোপরি বলা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ নয়, আবার নিঃশর্ত অনুমোদিতও নয়। বরং এর বৈধতা নির্ভর করে ব্যক্তি কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে এটি পালন করছে এর ওপর।

ইসলামের মূলনীতি হলো, ‘হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট; এ দুইয়ের মাঝখানে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়।’ তাই একজন সচেতন মুসলমানের উচিত, নিজের ইমান ও আমলকে সুরক্ষিত রেখে সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রাকে যদি মঙ্গলের জন্য শোভাযাত্রা বোঝানো হয়, তাহলে এটি ইসলামি আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। এটি ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রাণী ও মুখোশ ব্যবহার করে অমঙ্গল দূর করে মঙ্গল আহ্বানের যে ধারণা প্রচলিত, তা ঠিক নয়। ইসলামে মঙ্গল ও অমঙ্গলের একমাত্র মালিক ও নিয়ন্তা মহান আল্লাহ।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102