১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ—বাংলা সনের প্রথম দিন। পহেলা বৈশাখ বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি বাঙালির দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক দিবস। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোগল আমলে খাজনা আদায় সহজ করতে ফসলি সনের প্রচলনের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। ফলে একে নিছক ধর্মীয় নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনে গড়ে ওঠা একটি সংস্কৃতি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
ইসলাম সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে না, বরং এমন সংস্কৃতিকে অনুমোদন দেয়, যা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে এবং ইসলামি আকিদা-বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। সুতরাং পহেলা বৈশাখ যদি শুধু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে— যেমন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, বৈধ আনন্দ-বিনোদন ইত্যাদি, তবে তা বৈধতার পরিসরের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু এর সঙ্গে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অপসংস্কৃতি বা শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড যুক্ত হলে তা অবশ্যই পরিহারযোগ্য।
পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রসঙ্গে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি বেশ সংবেদনশীল। যদি কেউ মনে করে, এই শোভাযাত্রা বা এর প্রতীকগুলো (যেমন—পেঁচা, বাঘ, মুখোশ ইত্যাদি) কোনো অদৃশ্য শক্তি দ্বারা মঙ্গল বয়ে আনে বা অমঙ্গল দূর করে, তাহলে তা ইসলামি বিশ্বাসের পরিপন্থি। কারণ, ইসলামে মঙ্গল-অমঙ্গলের একমাত্র নির্ধারক আল্লাহ তাআলা। এর বিপরীত বিশ্বাস ইমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতি বা মুখোশ তৈরির বিষয়েও ইসলামে সতর্কতা রয়েছে। জীবন্ত প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জানানো হয়েছে, বিশেষ করে যদি তা সম্মান প্রদর্শন বা বিশেষ অর্থ বহন করে। তাই এসব বিষয়ে মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিত এবং সন্দেহজনক বিষয় থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
সর্বোপরি বলা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ নয়, আবার নিঃশর্ত অনুমোদিতও নয়। বরং এর বৈধতা নির্ভর করে ব্যক্তি কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে এটি পালন করছে এর ওপর।
ইসলামের মূলনীতি হলো, ‘হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট; এ দুইয়ের মাঝখানে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়।’ তাই একজন সচেতন মুসলমানের উচিত, নিজের ইমান ও আমলকে সুরক্ষিত রেখে সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকা।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রাকে যদি মঙ্গলের জন্য শোভাযাত্রা বোঝানো হয়, তাহলে এটি ইসলামি আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। এটি ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রাণী ও মুখোশ ব্যবহার করে অমঙ্গল দূর করে মঙ্গল আহ্বানের যে ধারণা প্রচলিত, তা ঠিক নয়। ইসলামে মঙ্গল ও অমঙ্গলের একমাত্র মালিক ও নিয়ন্তা মহান আল্লাহ।’