ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, কবরে মুনকার ও নকিল ফেরেশতাদ্বয় মৃত ব্যক্তিকে যে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করবেন এবং একজন মুমিন ব্যক্তি যেভাবে তার উত্তর দেবেন, তা নিয়ে অনেক মুসলমানদের মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। ইসলামি বিশ্বাস মতে, মানুষকে কবরে রাখার পর দুইজন ফেরেশতা (মুনকার ও নকিল) এসে তাকে তিনটি প্রশ্ন করেন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারা ব্যক্তির ইহকালীন আমল ও ঈমানের ওপর নির্ভর করে।
১. কবরের তিনটি মূল প্রশ্ন
কবরে ফেরেশতারা মৃত ব্যক্তিকে উঠিয়ে বসাবেন এবং অত্যন্ত গুরুগম্ভীর পরিবেশে নিচের তিনটি প্রশ্ন করবেন:
প্রথম প্রশ্ন: مَنْ رَبُّكَ؟ (মান রাব্বুকা?) — তোমার রব বা পালনকর্তা কে?
দ্বিতীয় প্রশ্ন: مَا دِينُكَ؟ (মা দিনুকা?) — তোমার দ্বীন বা ধর্ম কী ছিল?
তৃতীয় প্রশ্ন: مَنْ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ؟ (মান হাজা রাজুলুল্লাজি বুইসা ফিকুম?) — তোমাদের নিকট প্রেরিত এই ব্যক্তিটি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) কে?
২. মুমিন ব্যক্তির সহজ ও সাবলীল উত্তর
যিনি দুনিয়াতে ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল ছিলেন, তিনি আল্লাহর অনুগ্রহে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব সহজেই দিতে পারবেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর: رَبِّيَ اللهُ (রাব্বিয়াল্লাহ) — আমার রব আল্লাহ।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর: دِينِيَ الإِسْلَامُ (দিনিয়াল ইসলাম) — আমার ধর্ম ইসলাম।
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর: هُوَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (হুয়া রাসূলুল্লাহ ﷺ) — তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.)।
৩. উত্তর দেওয়ার উপায়: মুখস্থ না কি আমল?
কবরের জগতটি দুনিয়ার মতো নয় যে, কেউ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে গেলেই উত্তর দিতে পারবে। রাসুলুল্লাহ ﷺ এর বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় যে:
ঈমানের প্রতিফলন: কবরের উত্তরগুলো হবে ব্যক্তির জীবনের প্রতিফল। যারা দুনিয়াতে আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে তার বিধান মেনেছেন, ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং প্রিয় নবী ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন, তাদের মুখ দিয়ে এই উত্তরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বের হয়ে আসবে।
পাপিষ্ঠদের পরিণতি: হাদিসে এসেছে, যারা অবিশ্বাসী বা মুনাফিক ছিল, তারা প্রশ্নের উত্তরে বলবে— “হায়! আফসোস! আমি জানি না।” অর্থাৎ দুনিয়াতে অনেক জ্ঞান থাকলেও সেখানে তাদের জিহ্বা কাজ করবে না।
৪. সফল হওয়ার বিশেষ কিছু আমল
কবরের সওয়াল-জওয়াব সহজ করার জন্য ওলামায়ে কেরাম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কিছু আমলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন:
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত: নামাজ কবরের আজাব থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।
সূরা মুলক তেলাওয়াত: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মুলক পাঠ করলে কবরের আজাব মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।
সদকায়ে জারিয়া: মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করে যাওয়া।
বেশি বেশি ইস্তিগফার: আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া।
কবরের প্রশ্ন তিনটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর প্রকৃত প্রস্তুতি নিতে হয় সারা জীবনের কাজের মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ঈমানের সাথে কবরে যাওয়ার এবং সঠিক উত্তর দেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।