সামনেই পবিত্র হজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের মতো বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার মানুষ আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে মক্কায় সমবেত হচ্ছেন। হাজিদের একটি বড় অংশই থাকেন বয়স্ক এবং অনেকে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত। সৌদি আরবের প্রচণ্ড গরম এবং হজের কঠোর পরিশ্রমের ধকল সামলাতে বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিদের জন্য বাড়তি সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।
১. প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের তালিকা
অসুস্থ হাজিদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো তাদের নিয়মিত সেবন করা ওষুধগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে সাথে রাখা। ওষুধের ব্যাগে যা যা থাকা আবশ্যক:
নিয়মিত ওষুধ: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বা হাঁপানির জন্য যেসব ওষুধ ডাক্তার নিয়মিত দিয়েছেন, তা অন্তত ৪৫ দিনের জন্য সাথে রাখা উচিত।
জরুরি প্রাথমিক ওষুধ: হঠাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা, গ্যাস্ট্রিক এবং পাতলা পায়খানার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ।
ব্যান্ডেজ ও অ্যান্টিসেপটিক: পা কেটে যাওয়া বা ফোস্কা পড়ার জন্য ছোট একটি ফার্স্ট এইড কিট।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন: সব ওষুধের আসল প্রেসক্রিপশন ও নিজের রোগের সংক্ষিপ্ত মেডিকেল হিস্ট্রি সাথে রাখা জরুরি (সৌদি আরবে চেকিং বা জরুরি চিকিৎসায় এটি প্রয়োজন হয়)।
ইনসুলিন সংরক্ষণ: ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন ঠান্ডা রাখার জন্য ছোট ‘কুল ব্যাগ’ বা আইস প্যাক সাথে রাখা ভালো।
২. যাতায়াত ও ভিড়ের মধ্যে সতর্কতা
হজের সময় দীর্ঘ পথ হাঁটা এবং প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। বয়স্কদের জন্য এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে:
সহকারীর সাহায্য নেওয়া: বয়স্ক হাজিরা একা চলাফেরা না করে গ্রুপ লিডার বা পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে চলাফেরা করা নিরাপদ।
হুইলচেয়ারের ব্যবহার: যাদের হাঁটাচলায় সমস্যা আছে, তারা দীর্ঘ পথ (যেমন সাফা-মারওয়া বা তাওয়াফের সময়) সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হুইলচেয়ার সেবা ব্যবহার করতে পারেন।
পরিচয়পত্র সাথে রাখা: গলায় ঝোলানো পরিচয়পত্র (ID Card) এবং কবজিতে পরার ব্রেসলেট সবসময় পরে থাকতে হবে, যাতে পথ হারিয়ে ফেললে দ্রুত সহায়তা পাওয়া যায়।
৩. তীব্র গরম ও পানিশূন্যতা রোধ
সৌদি আরবের তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০°C থেকে ৫০°C পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বয়স্কদের জন্য হিটস্ট্রোক বড় একটি ঝুঁকি।
প্রচুর পানি পান: পিপাসা না লাগলেও নিয়মিত জমজমের পানি বা বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। সাথে স্যালাইন রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
ছাতা ও রোদচশমা: রোদ থেকে বাঁচতে সবসময় সাদা ছাতা ব্যবহার করা এবং সরাসরি রোদে না গিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করা।
সুতি পোশাক: ইহরামের বাইরে সময়গুলোতে ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরা।
৪. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, হজে যাওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে থেকেই প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটার অভ্যাস করা উচিত। এতে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে। এছাড়া দীর্ঘ ফ্লাইটে বা বাসে ভ্রমণের সময় পা মাঝেমধ্যে নাড়াচাড়া করা উচিত যাতে রক্ত জমাট না বাঁধে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কোনো ওষুধ বা টিকা নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশ হজ মেডিকেল টিমের নম্বরটি সংগ্রহে রাখুন।
হজ একটি শারীরিক ও মানসিক ইবাদত। সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে বয়স্ক ও অসুস্থ হাজিরাও সুস্থভাবে হজের সব কাজ সম্পন্ন করে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন।