চলতি আইপিএলে ১৫ বছরের কিশোর বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে যেন আগ্নেয়গিরি ডানা মেলেছে। গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে শুক্রবার রাতে যেন খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে রাজস্থান রয়্যালসকে এনে দিলেন এক দাপুটে জয়।
তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে ক্রিকেট মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের স্পোর্টসম্যানশিপ এবং বৈভবের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং পরিপক্কতা।
যা দেখে অনেকেই বলছে, ক্রিকেট ইতিহাসের সব রেকর্ড নতুন করে লিখতে আসছেন এই বিস্ময় বালক।
গতকাল ২০২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আরসিবি বোলারদের ওপর চড়াও হন বৈভব। মাত্র ১৫ বলে আসরের নিজের দ্বিতীয় দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৭৮ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে যখন তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, রাজস্থানের জয় তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে বৈভব ও ধ্রুব জুরেল মিলে পাওয়ার প্লে-তে ৯৭ রান তুলে আইপিএল ইতিহাসে রাজস্থানের সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোরের রেকর্ড গড়েন।

ম্যাচ শেষে নিজের বয়সের প্রায় অর্ধেক বয়সী এক কিশোরের কাছে মার খাওয়ার আক্ষেপের চেয়ে বড় হয়ে ধরা দিয়েছে ক্রিকেটীয় সৌজন্য। আরসিবি-র তারকা পেসার ভুবনেশ্বর কুমার বৈভবের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে জানান, এটি স্রেফ পাওয়ার হিটিং নয় বরং বিশুদ্ধ শিল্প।
ভুবনেশ্বরের মতে, ১৫ বছর বয়সে এমন শট সিলেকশন এবং মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা বিরল। তিনি বলেন, মাঠে নামলে বয়স কোনো দেয়াল হতে পারে না, আর বৈভব সেটিই প্রমাণ করেছেন।
বৈভবের ব্যাটিং দেখে বলাই যায় সে কেবল একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় নন, তিনি রেকর্ডের সংজ্ঞাই বদলে দিতে এসেছেন। এখনই যদি তার ব্যাটিংয়ের এই রুদ্রমূর্তি হয়, তবে আগামী ১০ বছর পর তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন তা ভাবলেই শিউরে উঠবে ২২ গজ।
২৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধিকাংশ বড় রেকর্ড—সেটা দ্রুততম রান হোক বা শতকের সংখ্যা—সবই সূর্যবংশীর দখলে চলে যাবে বলে মনে করছে সাবেক অনেক তারকা ক্রিকেটারদের।
আবার অনেকে মনে করছে, শচীন-বিরাটদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে এখনই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন সূর্যবংশী।
এদিকে, বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের সামনে কীভাবে এমন নির্ভীক ব্যাটিং করেন বৈভব? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি অনুশীলনে যা করি, সেটাই মাঠে করার চেষ্টা করি এবং নিজের স্বাভাবিক খেলায় ভরসা রাখি।
সূর্যবংশী আরও জানান, হ্যাঁ, মাথায় থাকে বোলার কে, কিন্তু আমি বল খেলি, বোলারকে নয়। আমার মনোযোগ থাকে শুধু বলের ওপর।