মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত থামলেও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারসহ বাংলাদেশেও।
সংঘাতের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডিপো ও পাম্প মালিকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যানবাহন চালকদের।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁও, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেও তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কোথাও কোথাও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অ্যাপভিত্তিক নিবন্ধনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ নয়; বরং গ্রাহকের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ বা অনিশ্চিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে, সেসব দেশের জাহাজ এ রুটে আটকে পড়লে সংকট আরও বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, যুদ্ধবিরতির পর জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এতে ধীরে ধীরে সংকট কমে আসবে।
অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, শুধু যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়; হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি সচল হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংকট পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা কম। তবে আটকে থাকা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।