লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার রাজমুকুট মাথায় দিয়ে শোবিজে পা রাখা বিদ্যা সিনহা মিম এখন ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ তারকা। নন্দিত নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ দিয়ে শুরু করে ‘জোনাকির আলো’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন- মিমের ক্যারিয়ারের গ্রাফ বরাবরই ঊর্ধ্বমুখী।
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে কলকাতার সিনেমাতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। বর্তমানে ক্যারিয়ারের এক ব্যস্ততম সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। সামনেই তিনটি ভিন্নধর্মী প্রজেক্টে তিনটি ভিন্ন চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি।
কুয়াকাটার চরে ‘লাইফ লাইন’
সম্প্রতি পর্যটন নগরী কুয়াকাটার মনোরম লোকেশনে একটি নতুন ওয়েব ফিল্মের শুটিং শেষ করেছেন মিম। কাজী আজাদের পরিচালনায় ‘লাইফ লাইন’ শিরোনামের এই কাজটিতে মিমকে দেখা যাবে একেবারে নতুন এক আবহে। একজন নারীর জীবনযুদ্ধ ও সংগ্রামের গল্পকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে এই ওয়েব ফিল্ম।
এ প্রসঙ্গে মিম জানান, ‘কুয়াকাটার দুর্গম চরে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও কাজটির শুটিং করেছি। এটি মূলত একটি মেয়ে ও তার জীবনযাত্রার জার্নি। চ্যালেঞ্জিং চরিত্র হওয়ায় এখানে নিজের অভিনয় দক্ষতা প্রমাণের বেশ সুযোগ ছিল। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’
চার বছর পর শুভ-মিম জুটি
দর্শকদের জন্য বড় চমক হিসেবে আসছে সাইফ চন্দন পরিচালিত সিনেমা ‘মালিক’। এই ছবির মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর পর পর্দায় ফিরছে আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম জুটি। এর আগে ‘সাপলুডু’ সিনেমায় তাদের রসায়ন দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘মালিক’ সিনেমার শুটিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর শুভর সঙ্গে কাজ করা নিয়ে মিম বেশ উচ্ছ্বসিত।
আসছে ‘জীবন অপেরা’
অন্যদিকে, আলভী আহমেদের পরিচালনায় ‘জীবন অপেরা’ নামের আরও একটি নতুন সিনেমার কাজ শুরু করেছেন মিম। এই সিনেমার প্লট নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু না বললেও মিম জানিয়েছেন যে, এর গল্পটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ভিন্নধর্মী প্রেক্ষাপটের এই সিনেমাটি দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে তিনি মনে করেন।
শেকড় ও আগামীর ভাবনা
সাফল্যের এই পর্যায়ে এসেও নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা ভোলেননি মিম। তিনি মনে করেন, আজকের এই অবস্থানের পেছনে ‘লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার অবদান অনস্বীকার্য। নিজের কাজ ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের প্রতি অনুরাগ থেকেই তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ছেন।
একই সময়ে তিনটি ভিন্ন ঘরানার কাজ- ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফ লাইন’, সিনেমা ‘মালিক’ এবং ‘জীবন অপেরা’ দিয়ে মিম আবারও প্রমাণ করতে চলেছেন যে, তিনি কেবল একজন গ্ল্যামারাস তারকা নন, বরং একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিনয়শিল্পী। সামনেই প্রজেক্টগুলো একে একে মুক্তি পাবে, যেখানে দর্শক মিমকে খুঁজে পাবেন সম্পূর্ণ নতুন তিন রূপে।