মানুষের জীবন সবসময় একরকম যায় না। উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখ এবং আনন্দ-বেদনার সংমিশ্রণেই মানবজীবন। অনেক সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা ভেঙে পড়ি, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মগ্ন হই এবং চারপাশ অন্ধকার দেখি। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য হতাশা বা নিরাশা হওয়া সাজে না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো কঠিন সময়ে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখাই হলো প্রকৃত সমাধানের পথ।
হতাশা নিয়ে কোরআনের অভয়বাণী
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ধৈর্য ধরার এবং নিরাশ না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন: “তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না; তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৩৯)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, “হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ (পাপ করেছ), তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।” (সূরা আজ-জুমার, আয়াত: ৫৩)। এই আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিপদ যতই বড় হোক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি প্রশস্ত।
বিপদে বিচলিত না হওয়ার কৌশল
মনোবল ধরে রাখতে এবং আল্লাহর ওপর আস্থা বাড়াতে ইসলামি চিন্তাবিদগণ কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন:
তাকদিরে বিশ্বাস: যা হওয়ার ছিল তা হয়েছে, আর যা হওয়ার নয় তা শত চেষ্টা করলেও হতো না—এই বিশ্বাস মনের ভার অনেকটা কমিয়ে দেয়।
ধৈর্য ও নামাজ: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।” (সূরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)। সিজদায় গিয়ে নিজের সব কষ্ট আল্লাহর কাছে উজাড় করে দিলে মানসিক প্রশান্তি মেলে।
বিপদকে পরীক্ষা হিসেবে দেখা: মনে রাখতে হবে, দুনিয়া কোনো চিরস্থায়ী আরামের জায়গা নয়। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করেন।
ইতিবাচক চিন্তা: পরিস্থিতির খারাপ দিক না দেখে আল্লাহর দেওয়া অন্য নেয়ামতগুলোর দিকে তাকালে কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি হয়, যা হতাশা কাটাতে সাহায্য করে।
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা
তাওয়াক্কুল মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যদি তোমরা আল্লাহর ওপর সঠিক উপায়ে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের ঠিক সেভাবেই রিজিক দান করতেন যেভাবে পাখিদের করেন; যারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় তৃপ্ত হয়ে ফিরে আসে।” (তিরমিজি)।
হতাশা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, যা মানুষকে কর্মবিমুখ ও আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে, আল্লাহর ওপর আস্থা মানুষকে দেয় নতুন করে বাঁচার শক্তি। তাই জীবনের প্রতিটি সংকটে বিচলিত না হয়ে উচ্চ স্বরে বলুন—’হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক)।