চলতি আইপিএল ২০২৬-এর শুরু থেকেই মাঠের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অবশেষে আম্পায়ারিংয়ের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) দ্বারস্থ হলো কাভিয়া মারানের মালিকানাধীন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
মূলত গত রবিবার লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচে আবেশ খানের এক বিতর্কিত কাণ্ডকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।
গত ৫ এপ্রিল রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদ ও লক্ষ্ণৌর মধ্যকার ম্যাচটি তখন তুঙ্গে। শেষ ২ বলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। ঋষভ পন্তের একটি শট যখন দ্রুত বাউন্ডারির দিকে যাচ্ছিল, তখনই ডাগআউটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লক্ষ্ণৌ পেসার আবেশ খান হাতে থাকা ব্যাট দিয়ে বলটি মাঠের ভেতরে ঠেলে দেন।
হায়দরাবাদ শিবিরের দাবি, বলটি বাউন্ডারি কুশন স্পর্শ করার পর আবেশ হস্তক্ষেপ করেছিলেন, যা নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি রানের দাবি রাখে। তবে মাঠের আম্পায়াররা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে এসআরএইচ।
বিসিসিআই-এর কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে হায়দরাবাদ জানিয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচে হেনরিখ ক্লাসেনের আউটের ক্ষেত্রেও ফিল সল্টের ক্যাচ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।
রিপ্লেতে সল্টের পা বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করার ইঙ্গিত থাকলেও থার্ড আম্পায়ার আউট ঘোষণা করেন। একইভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে অভিষেক শর্মার একটি বিতর্কিত ক্যাচ আউট এবং পরবর্তীতে প্রতিবাদের কারণে এই তরুণ ওপেনারকে জরিমানা করার বিষয়টিও বিসিসিআই-কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ জানায়, একের পর এক এমন সিদ্ধান্ত দলের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চিঠিতে তারা স্পষ্ট করেছে যে, ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তাদের নেই, তবে ভবিষ্যতে যেন এই ধরণের স্পর্শকাতর মুহূর্তে আম্পায়াররা আরও পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার পরিচয় দেন, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেন ক্যাচ বা বাউন্ডারি লাইনের সিদ্ধান্তগুলো ভুল হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।