মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় অস্থির হয়ে উঠেছে বহির্বিশ্ব- সেই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশ। বরং এটি যেন আরও গভীরভাবে ছাপ রাখতে চলেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে- ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেলশূন্য দেশে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ।
বুধবার (১ এপ্রিল) এমন তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই পথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি রেশনিং চালু করার কথা ভাবছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দেশনা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে।
দিন যত গড়াচ্ছে, সংকট ততই প্রকট হয়ে উঠছে। তাই চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত কত এবং তা দিয়ে কত দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব?
গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত আছে।
এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।
তিনি আরও জানান, দেশে প্রতি মাসে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন। মার্চ মাসে এলপিজির আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৪ টন।
এর আগে ২৭ মার্চ যশোরে এক অনুষ্ঠানে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার টন, আর পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের নিয়মিত ডিজেলের গড় চাহিদা ১২ হাজার টন। সে হিসাবে বর্তমানে থাকা ডিজেল মজুত প্রায় ১১ দিনের মতো চলতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, জ্বালানি তেলের মজুত পুরোপুরি শূন্য হয়ে যাবে।
এদিকে সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার টন এবং মার্চে ভারত থেকে ২২ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এসেছে, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে।