বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাকিস্তান যেভাবে হোয়াইট হাউসের আস্থা অর্জন করল ভয়াবহ বন্যায় ডুবে যাচ্ছে দেশ, বড় মাপের বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কেন এই শত্রুতা? টেলিকম মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কোটি টাকায় বালুমহালের ইজারা, ছাত্রদল-বিএনপি নেতার টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন ৩ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো ডা. দীপু মনিকে, পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী স্পেনের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল না ইতালি ভারতের মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ‘নাগরিকত্ব’ এখনো বাতিল ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন: ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আন্তর্জাতিক নিন্দা জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ আজ

বাণিজ্যের আড়ালে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ৬৮.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।

তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং বা পণ্যের মূল্য ভুলভাবে ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এই অর্থ সরানো হয়েছে। যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়।

এই পদ্ধতিতে আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বেশি দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে কম দেখানো (আন্ডার ইনভয়েসিং) হয়। এর মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া, বিদেশে মুনাফা স্থানান্তর এবং গোপনে সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মূল্যের এই অসামঞ্জস্যের কারণে ক্ষতির দিক থেকে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের সময় এই ধরনের কারসাজি বেশি হয়েছে। মোট পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় সরানো হয়েছে। গবেষণাটি আরও দেখায়, এই সমস্যা শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত। দেশের রপ্তানিমুখী খাত ও আমদানিনির্ভর শিল্পগুলোতে এই ধরনের অনিয়ম তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও ভারতের তুলনায় তা অনেক কম। একই সময়ে ভারত থেকে প্রায় ১.০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ধরা পড়েছে, যা দেশটির দুর্বল অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।

পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ২০২২ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর পাশাপাশি ছোট দেশগুলোতেও এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। জিএফআই সতর্ক করে বলেছে, গত এক দশকে এই অনিয়ম কমার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গেড়ে বসেছে, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও নীতিগত উদ্যোগ জরুরি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102