বছর ঘুরে আবারও ঘনিয়ে এলো পবিত্র হজের মাহেন্দ্রক্ষণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহান আল্লাহর মেহমানদের বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত পবিত্র মক্কা ও মদিনা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হতে শুরু করেছে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ।
সৌদি আরবের ব্যাপক প্রস্তুতি
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হজের জন্য মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফায় হাজিদের আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন আনা হয়েছে। তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে মিনা ও আরাফাতের তাবুগুলোতে উন্নত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া হাজিদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত থাকবে কয়েক হাজার চিকিৎসক ও প্যারামেডিক। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে এবারও ‘স্মার্ট হজ কার্ড’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটের মাধ্যমে হাজিদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও জমজমের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের যাত্রা
বাংলাদেশ থেকে এবারের হজ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। আশকোনার হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের ভিড় এবং বিদায়ের আবেগঘন দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’- এর আওতায় ঢাকাতেই প্রাক-ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা হাজিদের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও ব্যবস্থাপনা
চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলারের বিনিময় হারের কারণে হজের খরচ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, হজ পালনের আকাঙ্ক্ষায় কোনো ভাটা পড়েনি। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, বিমানে টিকিট সংকট এড়াতে এবং মক্কায় হাজিদের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। মক্কায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশন ২৪ ঘণ্টা হাজিদের সহায়তায় নিয়োজিত রয়েছে।
ঐক্যের মহামিলন
সাদা দুই টুকরো ইহরামের কাপড়ে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা এবং বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে কোটি মানুষের এক কাতারে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য উদাহরণ। কয়েক দিনের মধ্যেই হাজিরা মিনায় সমবেত হবেন এবং শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় এখন প্রহর গুনছেন লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ।