রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

নতুন টাকা বেচা-কেনা জায়েজ নাকি সুদ?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশবাসী। ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে নতুন টাকা কেনাবেচার প্রচলন রয়েছে। মানুষ ঈদে ছোটদের সালামি দেওয়ার জন্য নতুন নোট কিনে থাকেন। রাজধানীর গুলিস্থানে ১০ টাকার ১০০টি নতুন নোট বা ১ হাজার টাকা বিক্রি করা হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। কিন্তু ইসলামে এ কেনাবেচার বিধান কী?

ইসলামি আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদরা টাকার বিনিময়ে টাকা বেশ-কম করে বেচাকেনাকে নাজায়েজ বলেছেন। ইসলামে এক প্রকারের দুটি জিনিস কমবেশি ক্রয়-বিক্রয় করা নাজায়েজ। কারণ, এ রকম লেনদেনে অতিরিক্ত অংশ সুদ হয়ে যায়। তাই আলেমরা, একে সুদ কারবারের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন। এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত হওয়া কোনোভাবেই জায়েজ হবে না। কারণ টাকা বা কাগজের নোট পণ্য নয়, বরং এটি মূল্য, তাই এ নিয়ে ব্যবসা করার অনুমোদন নেই ইসলামে।

অনেক উলামায়ে কেরাম নতুন টাকা সংগ্রহের এ পদ্ধতিকে জায়েজ বলেন অপারগতার ক্ষেত্রে। একেবারে অপারগতার ক্ষেত্রে নতুন টাকা সংগ্রহ করার পরিশ্রম বাবদ কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিতে হবে যে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে নতুন টাকা সংগ্রহের পারিশ্রমিক হিসেবে, নতুন টাকার মূল্য হিসেবে নয়।

ইসলামের পরিভাষায় মুদ্রার লেনদেনকে বাইয়ুস সারফ বলা হয়। এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক, দুটি ভিন্ন ভিন্ন দেশের মুদ্রা; দুই, একই দেশের মুদ্রা। প্রথম প্রকার তথা এক দেশের মুদ্রা আরেক দেশের মুদ্রার বিনিময়ে কম-বেশি করে বেচাকেনা করা জায়েজ। তবে শর্ত হলো, বেচাকেনার বৈঠকেই অন্তত এক পক্ষকে মুদ্রা সোপর্দ করতে হবে। কোনো একটি পক্ষও যদি বিনিময়কৃত মুদ্রা বুঝে না পায়, তবে সেই বেচাকেনা বৈধ হবে না। (জাদিদ ফিকহি মাসায়িল ৪/২৮; জাদিদ মুআমালাত কে শরয়ি আহকাম ১-১৩৯)

অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রকার তথা একই দেশের মুদ্রা হলে পরস্পর লেনদেনে সমতা রক্ষা করা জরুরি। কমবেশি করে বেচাকেনা করা মোটেও জায়েজ হবে না।

এমনটি করলে সেই লেনদেন সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে যা বেশি নেওয়া হবে তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে। (হিদায়া, কিতাবুল বুয়ু, বাবুর রিবা, ০৩/৮৫, মুসতাদরাক আলাস সাহিহাইন ০২/৬৫-৬৬, শারহু মাআনিল আসার, ৫৫৫৪, সুনান দারু কুতনি ৩০৬০)

শুধু টাকা-পয়সা বা সোনা-রূপার ক্ষেত্রেই নয়, যেকোনো বস্তুর ক্ষেত্রেই একই জিনিস কমবেশি করে বেচাকেনা করা বৈধ নয়। এটি বর্ধিত অংশটি সুদ হয়ে যায়। দেশি মুদ্রা একই প্রকারের হওয়ায় পরস্পর কমবেশিতে বেচাকেনা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত অংশ সুদ হিসেবে গণ্য হবে। (আদদুররুল মুখতার ৫/১৭১-১৭২, বুহুসুন ফি কাজায়া ফিকহিয়্যা ১/১৬৩)

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102