বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে বিরোধী দল হিসেবে আন্দোলন-সংঘাতের মধ্য দিয়ে রাজনীতির রং চর্চা করে আসা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৮৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৈরি করছে ছায়া মন্ত্রিপরিষদ। সরকারের নীতি, পদক্ষেপ এবং কার্যক্রমের ওপর নজর রেখে সঠিক ও বিকল্প নীতি প্রস্তাবের জন্য এই মন্ত্রিসভা কাজ করবে।
দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানিয়েছেন, উন্নত দেশের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা এসেছে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশে এই পদ্ধতি সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধী দলের নীতি প্রস্তাবকে গঠনমূলক করে তুলতে সাহায্য করছে।
ছায়া মন্ত্রিপরিষদের প্রাথমিক তালিকা ইতোমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ, সাবেক আমলা, গবেষক এবং ছাত্র প্রতিনিধিদেরও রাখা হবে। মন্ত্রিসভার কার্যক্রমের জন্য থাকবে একটি বিশেষ সেক্রেটারিয়েট।
শিশির মনির বলেন, ছায়া মন্ত্রিপরিষদ শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং বিজ্ঞান, শিক্ষা, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়েও গঠিত হবে। আমাদের লক্ষ্য একটি পূর্ণাঙ্গ, দক্ষ এবং সমন্বিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা।
চূড়ান্ত তালিকা এখনো গোপন থাকলেও দল জানিয়েছে, সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমকে পর্যবেক্ষণ করা, ভুল সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিকল্প নীতি প্রস্তাব করা হবে। ছায়া মন্ত্রিপরিষদ পরিচালনায় সরকারের কোনো সরাসরি সুবিধা নেওয়া হবে না; বরং খরচ বহন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব তহবিল।
এ ছাড়া, এনপিসিসহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের শরিকদের সংযুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদটি গঠনের সময়কালও নির্দিষ্ট নয়, শিশির মনির জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল প্রায়ই সরকারের ভুল-ত্রুটি প্রকাশ করার জন্য রাজপথে নামে, যা কখনো সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নেয়। অন্যদিকে উন্নত দেশের পদ্ধতিতে ছায়া মন্ত্রিপরিষদ সরকারের সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করে এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেয়। এতে বিরোধী দলও সরকারের কাজের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমে।
শিশির মনিরের মতে, ছায়া মন্ত্রিপরিষদ হবে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক দৃষ্টান্ত, যেখানে সব বয়সি এবং যোগ্য ব্যক্তিরা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। এটি একদিকে সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে বিরোধী দলকে প্রস্তুত রাখবে শাসন ব্যবস্থায় কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য।