রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

আমাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আমরা উন্নত করার চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমে। তবে এটা রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এর জন্য সময় লাগবে। আমরা গণতান্ত্রিক ভালো প্র্যাকটিসগুলো করতে চাই; অতীতের খারাপ সংস্কৃতি দূর করে ভালো সংস্কৃতি চর্চা, সৃজন ও লালনের মাধ্যমে ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে আসতে চাই। আর ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা আমরা জাতীয় সংসদ থেকেই শুরু করতে চাই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-রিফর্ম ওয়াচ’ আয়োজিত “মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু ফ্যাসিস্ট রেজিমে আমরা মারাত্মক আকারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংঘটিত হতে দেখেছি বিশেষ করে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। সেজন্য একটি রাজনৈতিক দল বা জাতি হিসেবে আমরা মানবাধিকার সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; বিশেষ করে সংবিধানে যেসব মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মানবাধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি আমাদের প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। এটা আমাদের ৩১ দফায়ও রয়েছে। ইশতেহারে বিভিন্ন বিষয়ে আমরা কমিশন করার কথা বলেছি যার মধ্যে মানবাধিকার এবং ট্রুথ এন্ড হিলিং কমিশনের কথাও রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে যাতে ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা শূন্যতে নেমে আসে, সেজন্য আমাদেরকে ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমিকভাবে মানবাধিকার উন্নয়নে যেতে হবে। রাতারাতি শতভাগ মানবাধিকার সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানবাধিকার মান ও সূচককে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নত করতে চাই। তবে সেজন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে। আমরা জানি, কারা, কিভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় এটার বাস্তবায়নে বাধা দিতে পারে। সেজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, যে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হয়েছে, সেখানে প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। কিছু কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনতে হতে পারে যেগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার তাদের ধ্যান-ধারণা মতে জারি করেছে, সেই অধ্যাদেশগুলোর অধিকাংশই হয়তো হুবহু আকারে আমরা গ্রহণ করতে পারবো। তবে বেশ কিছু অধ্যাদেশ রয়েছে, যেগুলো আলোচনার দাবি রাখে। তিনি বলেন, যেহেতু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে জাতীয় সংসদেন অধিবেশন যেদিন বসবে তার থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ ল্যাপস, পাস অথবা সংশোধনী আকারে গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া যেহেতু সময়ের স্বল্পতা রয়ে গেছে ৩০ দিনের (৩০ কার্যদিবস নয়), মাঝখানের বন্ধ বা ছুটির দিনও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। সেজন্য যেসব অধ্যাদেশ আমরা সংসদে উঠাতে পারবে না, সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাপস হয়ে যাবে কিন্তু পরবর্তী অধিবেশনে সেগুলো আমরা বিল আকারে আনতে পারবো।

তিনি বলেন, সংসদে আমরা একটা প্রারম্ভিক ভাষণও দিয়ে রাখবো। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের ভেতর যেটা সম্ভব, আমরা সেটা করবো। তার মধ্যে অবশ্যই মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশটি থাকবে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৭ টি অধ্যাদেশও রয়েছে।

নাগরিক প্লাটফর্ম এর আহবায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এর সভাপতিত্বে সংলাপে অংশ নেন ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এমপি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নারীনেত্রী খুশী কবির প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102