রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

ইরানে হামলার প্রতিবাদে ট্রাম্পের সমালোচনায় হলিউড তারকারা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও হলিউডের অনেক জনপ্রিয় মুখ এবং শান্তিকামী তারকা একে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ এবং ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ হিসেবে দেখছেন।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে হলিউড তারকারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মার্ক রাফালো (Mark Ruffalo) : মার্ভেল খ্যাত এই অভিনেতা ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর সমালোচনা করে বলেন যে, সরকার কূটনৈতিক আলোচনার পরিবর্তে যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ রাখা হলো না।

রোজি ও’ডোনেল (Rosie O’Donnell) : কমেডি তারকা রোজি ও’ডোনেল ট্রাম্পকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি ঠিক তার উল্টোটা করছেন। তিনি ট্রাম্পের পুরোনো বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে তার বৈপরীত্য তুলে ধরেন।

জন কুস্যাক (John Cusack) : এই অভিনেতা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট (যেমন এপস্টেইন মামলা-সংক্রান্ত বিতর্ক) থেকে দৃষ্টি সরাতে এই যুদ্ধকে একটি ‘ডাইভারশন’ বা মনোযোগ সরানোর উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন।

জেন ফন্ডা (Jane Fonda) : প্রবীণ এই অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী লস অ্যাঞ্জেলেসের এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই হামলাকে অবৈধ এবং অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এটিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জ্যাক হোয়াইট (Jack White): জনপ্রিয় এই মিউজিশিয়ান তার ইনস্টাগ্রামে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি আলোচনার দাবিকে বিদ্রূপ করে বলেন, ট্রাম্প আসলে সাধারণ মানুষের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছেন।

অভিনেতাদের পক্ষ থেকে যে তিনটি প্রধান বিষয় বারবার উঠে আসছে তা হলো:

১. নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ : ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে যুদ্ধের পথে হাঁটছেন।

২. মানবিক বিপর্যয় : সাধারণ ইরানি নাগরিকদের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন।

৩. আইনি বৈধতা : কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন বলে অনেকে মনে করছেন।

হলিউডের এই প্রতিবাদ মার্কিন জনমতের একটি বড় অংশের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিনোদন জগতের সবাই যে এর বিপক্ষে তা নয়; কেউ কেউ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সমর্থনও করেছেন। তবে সব মিলিয়ে বিনোদন জগৎ এখন স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102