পবিত্র রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো ‘সদকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা। এটি শুধু একটি দান নয়, বরং সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর একটি বিশেষ ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। তবে ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব এবং কতটুকু সম্পদ থাকলে এটি দিতে হয়, তা নিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল) সুবহে সাদিকের সময় যে ব্যক্তির কাছে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর সাড়ে সাত তোলা সোনা (৮৭.৪৮ গ্রাম) অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার (৬১২.৩৬ গ্রাম) সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকবে, তার ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।
সম্পদের হিসাব : এই সম্পদের ওপর জাকাতের মতো এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। ঈদের দিন সকালে এই পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকলেই ফিতরা দিতে হবে।
পরিবারের দায়িত্ব: পরিবারের কর্তা নিজের পাশাপাশি তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।
বর্তমান বাজারমূল্যে নিসাব
বর্তমানে সোনার তুলনায় রুপার দাম অনেক কম হওয়ায় ফিতরার নিসাব সাধারণত রুপার মূল্য দিয়ে হিসাব করা হয়। এতে করে বেশি সংখ্যক মানুষ ফিতরা দেওয়ার সুযোগ পান এবং গরিবরা বেশি উপকৃত হন।
উদাহরণস্বরূপ : যদি বর্তমানে রুপার তোলা ১,৫০০ টাকা হয়, তবে ৫২.৫ তোলা রুপার দাম আসে ৭৮,৭৫০ টাকা। অর্থাৎ, কারো কাছে ঈদের দিন এই পরিমাণ টাকা বা সম্পদ থাকলে তাকে ফিতরা দিতে হবে।
(উল্লেখ্য: বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই টাকার অঙ্ক পরিবর্তনশীল)।
ফিতরা প্রদানের সময় ও লক্ষ্য
সময় : ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম। তবে রমজান মাস চলাকালীন যেকোনো সময় এটি দেওয়া যায়।
উদ্দেশ্য : রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ফিতরা হলো রোজাদারের অনর্থক কথাবার্তা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা এবং অভাবী মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা।
ফিতরা কেবল একটি আর্থিক লেনদেন নয়, এটি সামাজিক সাম্যের একটি অনন্য নিদর্শন। যাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব, তাদের উচিত সঠিক সময়ে তা আদায় করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করা।