বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল প্রণয়নে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে মহানগর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর সারাদেশের বিভিন্ন আসন থেকে তাদের দলের বিজয়ের খবর আসতে থাকে। কিন্তু রাত ৯টার পর রহস্যজনকভাবে গণমাধ্যমে সেই ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। তার দাবি, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়ার মধ্যে কারসাজি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের পর দলের আমির এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একাধিকবার বলেছেন, দেশের শান্তি, উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় জামায়াত সব সময় নিয়মতান্ত্রিক, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক ও হটকারী পদ্ধতিতে সহিংসতা কিংবা চরমপন্থার কোনো পথকে তারা ইসলামী পথ হিসেবে মনে করেন না। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে জনগণ যেভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিল, তা শুধু তাদের নয়, পুরো দেশকেই বিস্মিত করেছে। এমনকি যারা বিরোধিতা করেছে তারাও অবাক হয়েছে যে, জামায়াতে ইসলামী এত ভোট পেয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের দুই দিন আগে রাজধানী ছাড়ার সময় ট্রেনের ছাদে, নৌকায়, লঞ্চে ও বাসে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে—এমন দৃশ্য এর আগে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে মুখর হয়ে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে গেছে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলোতেও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে স্পষ্ট জনসমর্থন প্রত্যক্ষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সংসদীয় আসনে ১ থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে এবং এমন আসনের সংখ্যা ৫০টির বেশি হবে বলে তারা ধারণা করছেন। এ বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করেছেন। বিধি অনুযায়ী এসব বিষয়ে তারা আদালতে যাবেন বলেও জানান। যেসব আসনে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোতে পুনর্গণনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।
মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল ও আনোয়ার হাসান সুজন, সহ-সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সাংগঠনিক থানা শাখার আমির ও সভাপতি এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।