ঢাকার অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুর ও আদাবরে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত চলা এই বিশেষ অভিযানে মোট ১০০ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে ঈদুল ফিতর উদযাপনের পরিবেশ তৈরি করতেই এই ‘বিশেষ অভিযান’ চালানো হয়েছে। অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলো ছিল, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বন্ধ করা, সাধারণ নাগরিকদের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতরা চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। উপকমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, এই এলাকায় অপরাধীরা যাতে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য পুলিশের এমন অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে মোহাম্মদপুর এলাকাটি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার থানায় গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
উল্লেখযোগ্য তথ্য, বিবরণ
অভিযানের সময়, বুধবার রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত।
আটক সংখ্যা, ১০০ জন (মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা)।
অপরাধের ধরন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জননিরাপত্তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা।
বারবার অভিযান চালানো সত্ত্বেও মোহাম্মদপুরে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ ছিল জনমনে। তবে রমজানের শুরুতে পুলিশের এই বড় ধরনের তৎপরতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।