নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে চারজন নিহতের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
আটক হলেন তুজাম মোল্যার ছেলে তুফান মোল্যা (৩০), তৈয়ব শিকদারের ছেলে লাজুক ওরফে সূর্য শিকদার (৩২), রুহুল মোল্যার ছেলে সদর মোল্যা (৩৬), সবুর মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা (৩০), মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০), আমিন শিকদারের ছেলে রনি শিকদার (৩৩)।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তিনজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে আটক ছয়জনকে নড়াইল সদর থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যার মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যার অনুসারী বড়কুলার বাসিন্দা ওসিকুর ফকিরের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছিল। এরই জের ধরে গতকাল সোমবার ভোররাতে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতির সময় তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্যা গ্রুপের ৫০ থেকে ৫৫ জন লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখের বাড়িতে হামলা করে। হামলায় খলিল শেখ গ্রুপের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৬৮), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪০) এবং একই দলের ফেরদাউস হোসেন (৪২) ও প্রতিপক্ষের ওসিকুর ফকির (৩৬)। ঘটনার পর পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।