পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সময়। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও পাপাচার থেকে বিরত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা পালন করেন। তবে রোজা পালনকালীন কিছু শারীরিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে রোজা ভাঙবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে। বিশেষ করে বমি হওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ে ইসলামের সঠিক নির্দেশনা জানা জরুরি।
১. বমি করলে কি রোজা ভেঙে যায়?
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা থাকা অবস্থায় বমি হওয়া মানেই রোজা ভেঙে যাওয়া নয়। বিষয়টি মূলত নির্ভর করে বমির পদ্ধতির ওপর:
অনিচ্ছাকৃত বমি : যদি হঠাৎ করে বা অসুস্থতার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়, তবে বমির পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি (খাদ্য বা রক্ত যাই হোক), তাতে রোজা ভাঙবে না। কারণ রোজা হলো পানাহার থেকে বিরত থাকা, আর বমি হলো তার বিপরীত প্রক্রিয়া।
ইচ্ছাকৃত বমি : যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে (যেমন—গলায় আঙুল দিয়ে) বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে রোজাটির ‘কাজা’ আদায় করা ওয়াজিব।
বমি গিলে ফেলা: বমি মুখে আসার পর যদি কেউ তা পুনরায় গিলে ফেলে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে।
২. অজ্ঞান বা বেহুশ হয়ে পড়লে করণীয়
রোজা অবস্থায় কোনো কারণে কেউ সাময়িকভাবে অজ্ঞান বা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সাধারণত রোজা নষ্ট হয় না। তবে কিছু বিশেষ দিক খেয়াল রাখতে হবে:
অজ্ঞান হওয়ার ফলে যদি রোজার পরিপন্থি কোনো কিছু না ঘটে, তবে রোজা শুদ্ধ থাকবে।
কিন্তু অজ্ঞান হওয়ার পর যদি শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং জীবন বাঁচাতে বা সুস্থ করতে পানাহার কিংবা ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হয়, তবে রোজা ভেঙে ফেলা যাবে। এ ক্ষেত্রে পরে কেবল একটি কাজা রোজা রাখলেই চলবে।
৩. হাদিসের আলোকে নির্দেশনা
রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সুনানে তিরমিজির হাদিসে (হাদিস নং ৭২০) বলা হয়েছে, যার অনিচ্ছাকৃত বমি হলো তার ওপর কাজা নেই। কিন্তু যে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করল, সে যেন ওই রোজার কাজা আদায় করে নেয়।
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য শিথিলতা
যদি বমি বা অসুস্থতার কারণে কেউ এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে রোজা সম্পন্ন করা তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে তিনি রোজা ভেঙে ফেলতে পারবেন। ইসলামে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় কেবল কাজা (একটি রোজার বদলে একটি) আদায় করতে হবে, কাফফারার প্রয়োজন হবে না।
সঠিক নিয়ম জেনে রোজা পালন করা ইবাদতের অংশ। অনিচ্ছাকৃত বমি বা অজ্ঞান হওয়াতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তবে রোজা রক্ষার স্বার্থে সচেতন থাকা এবং অসুস্থতা বাড়লে ইসলামের দেওয়া শিথিলতা গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।