ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পেঁয়াজের আবাদ। চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিস্তীর্ণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্যের আশায় অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলার কাশিনাথপুর, হাবিবপুর, দুধসর ও ত্রিবেনীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠজুড়ে পেঁয়াজের সমারোহ। কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছরে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এ ফসলের দিকে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘাপ্রতি ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে আশা করছেন তারা।
হাবিবপুর এলাকার কৃষক আব্দুল গফফার বলেন, আগে এক বিঘা জমিতে ধান করতাম। এবার দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ করেছি। খরচ একটু বেশি হলেও লাভের সম্ভাবনা ভালো।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শৈলকুপায় কয়েকশ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। রোগবালাই দমন ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, পেঁয়াজ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। সঠিক সময়ে চারা রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভালো ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।
স্থানীয় বাজারে দেখা গেছে, আগাম জাতের পেঁয়াজ ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও বাজার স্থিতিশীল থাকলে শৈলকুপা পেঁয়াজ উৎপাদনে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। ফলে উপজেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন।