ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহনের শেষ মুহূর্তে এসে ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ বার্তা দেন তিনি।
পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির লিখেন, গতকাল থেকেই আপনারা সকল গুজবকে পরাজিত করেছেন এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করেছেন। আজ সকাল থেকেই আপনারা উৎসবের মতো করে ভোট দিয়েছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে। কিন্তু, আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে লক্ষ্য করছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা করে জখম করা হচ্ছে। নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
তিনি লিখেন, আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ করবো, যেভাবে আপনারা এখন পর্যন্ত ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছেন, সেভাবেই ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত আপনারা আপনাদের ভোটকে রক্ষা করুন। আপনার মূল্যবান ভোটটি যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য আপনারা ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারাদার হয়ে যান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।
ডা. শফিকুর রহমান লিখেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, আপনারা এখন পর্যন্ত অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করেছেন সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য। কিন্তু, আরও তড়িৎ পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে দেশবাসী মনে করে।
তিনি লিখেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেউ কেউ কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্রকে কঠোর হস্তে দমন করার উদাত্ত আহ্বান জানাই। জনগণের ভোটের আমানতকে রক্ষা করুন। জনগণের পাশে থাকুন।
এর আগে এক পোষ্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির লিখেন, আপনারা এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, কেন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এটি ছিলো একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত; কিন্তু জনগণ অবিচল ছিলো, তারা চুপ থাকেনি এবং নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি লিখেন, নাগরিকরা যখন সজাগ থাকে, তখন কোনো শক্তিই সত্যকে গোপন করতে পারে না এবং কোনো কর্তৃপক্ষই জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা রাখে না।
ডা. শফিকুর রহমান লিখেন, কোনো অপশক্তি আমাদেরকে আর বোকা বানাতে পারবে না। এই জাতি আজ জাগ্রত। ‘জেন-জি’ প্রজন্মকে ধোঁকা দেওয়া সম্ভব নয়; তারা পর্যবেক্ষণ করে, তারা প্রশ্ন তোলে এবং তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে।
তিনি লিখেন, সরকার বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণের। এটাই নিয়ম এবং এটাই হতে হবে। এই অধিকারকে পাহারা দিন, একে রক্ষা করুন; কখনোই এই অধিকার কারও হাতে সমর্পণ করবেন না। যে জাতি জাগ্রত, তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।