ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন বন্দিরা। এরপরও সারা দেশের প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন মাত্র চার হাজার ৫৩৮ জন। বাকিরা কেন ভোট দেননি, তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র বলছে, বন্দিদের মধ্যে অনেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় ভোটে অংশ নেননি। এ ছাড়া এনআইডি কার্ড না থাকার কারণেও অনেকে নিবন্ধন করতে পারেননি।
কারা অধিদপ্তর জানায়, কারাগারে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, পরদিন ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ ও ৭ ফেব্রুয়ারি ৪৭১ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। নিবন্ধিত বাকি ১ হাজার ৪০২ জন বন্দিকে সুযোগ দিতে আরও এক দিন (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ছয় হাজার ৩১৩ জন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল করে বৈধ নিবন্ধন দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগারের ৪ হাজার ৫৩৮ বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, দুটি কারণে বন্দিদের ভোট দেওয়ার সাড়া কম বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। প্রথমত, অনেকের কাছে এনআইডি কার্ড নেই বলে আবেদন করেনি। আরেকটি হলো, কারাগারে ভোটের জন্য নিবন্ধন করলে বাইরে বের হলে তারা ভোট দিতে পারবেন না। এটা ভেবে অনেক বন্দি নিবন্ধন করেননি। কারণ অনেকে মনে করেছেন, ভোটের আগে জামিন পেয়ে যাবেন।’
নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বন্দিরা তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ৫ জানুয়ারি এই নিবন্ধন শেষ হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।