ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতা ও অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৩টি আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, এক দলের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকা, অতীতে সহিংসতার ইতিহাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক সংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব এবং বাম ও চরমপন্থি প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এসব আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটের দিন হট্টগোল, পাল্টাপাল্টি হামলা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনপূর্ব ও ভোটের দিন বিশেষ নজরদারির জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে— কুড়িগ্রাম-১, সিরাজগঞ্জ-৩, গাইবান্ধা-৩, বগুড়া-৩, নওগাঁ-২ ও ৩, রাজশাহী-৪ ও ৫, ঠাকুরগাঁও-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, দিনাজপুর-২ ও ৫, নীলফামারী-১ ও ৪, রংপুর-১ ও ৪, নাটোর-১, পাবনা-৩, নারায়ণগঞ্জ-২ ও ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ ও ৫, গোপালগঞ্জ-১ ও ২, কিশোরগঞ্জ-১, টাঙ্গাইল-৩, লক্ষ্মীপুর-২, ফরিদপুর-১ ও ৩, মাদারীপুর-১, ঝিনাইদহ-১, মৌলভীবাজার-২, কুমিল্লা-৩, ফেনী-১, কক্সবাজার-৪, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা-৩, মুন্সীগঞ্জ-১, ময়মনসিংহ-২ ও ৬, ঢাকা-১, ৯, ১৫ ও ১৬, নোয়াখালী-১ ও ৩, শরীয়তপুর-১ ও ২, চাঁদপুর-১, চট্টগ্রাম-১, ২ ও ৬ এবং নরসিংদী-৩।
পুলিশ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব এলাকার থানা ও পুলিশ ফাঁড়িগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান ও তল্লাশি চালানো হবে।
এসব আসনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না ঘটে, সে জন্য সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।