আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, এর তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কহার (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) নিয়ে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির বিষয়টি জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আগে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও আলোচনার সুযোগ রেখে দেয়। পরে ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা আলোচনার পর গত ৩১ জুলাই এই শুল্কহার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে তখন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়নি। এবার সেই চুক্তিই চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে।
এদিকে রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারিখ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখে সইয়ের অনুমোদন চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে।
পাল্টা শুল্কের হার আরও কমতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক বহাল আছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে একই হার রয়েছে, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কিছুটা কমার আশা থাকলেও ৯ ফেব্রুয়ারির আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতিতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ছাড়বেন। প্রথমে তারা জাপান সফর করবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সেখান থেকেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
জাপানের সঙ্গে ইপিএ কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে, জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় দেশটি থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ সুবিধা পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়বে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই হওয়া নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। তার মতে, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ এবং ভারত এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক অবস্থানে রয়েছে।
এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।