মাসব্যাপী আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পর্দা নামল শনিবার (৩১ জানুয়ারি)। সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের মেলায় সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এসেছে ১৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মেলায় স্থানীয়ভাবে পণ্য বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার। টিকিট বিক্রিসহ সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায়।
রাজধানীর পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
ডিআইটিএফ-২০২৬-এ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ছয়টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নেয়।
মেলায় পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কসমেটিক্স, হোম ডেকোরেশন, খেলনা, স্টেশনারিজ, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক ও মেলামাইনসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়।
মেলার জরিপে নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শনে কারা অধিদপ্তর, জয়িতা ফাউন্ডেশন, বিসিক, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, জেডিপিসি, এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস এবং বাংলাদেশ টি বোর্ডের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য বলে জানানো হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম ও হোম টেক্সটাইল খাত থেকে এসব সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে।
সমাপনী দিনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, পণ্য উপস্থাপন, দর্শনার্থী সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ইনোভেশনের ভিত্তিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়।
মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৮টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন ছিল।
এবারের মেলায় অনলাইনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ এবং প্রবেশ টিকিট সংগ্রহের সুবিধা চালু করা হয়। যাতায়াত সুবিধায় বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশন রেটে পাঠাও সেবা যুক্ত ছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস মোতায়েন ছিল।
সব মিলিয়ে সফল ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রদর্শনী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার।