ভারতের কারাগারে আটক থাকা ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশে আটক ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকেও ছেড়ে দিয়ে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানা ব্লকের ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দর থেকে পাঁচটি ট্রলারে করে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা আন্তর্জাতিক জলসীমার উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছানোর পর সেদিন রাতেই ভারতীয় কোস্ট গার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে তুলে দেয়।
এর আগে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে এসব বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে আটক করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। সে সময় তাদের ট্রলারও জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির পর বুধবার সকালে ফ্রেজারগঞ্জ নৌবন্দরে এক সংক্ষিপ্ত বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের জন্য জ্যাকেট, ট্রাউজার, খাবার পানি, শুকনো খাদ্য, জ্বালানি ও আগামী কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় রসদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন: কাকদ্বীপ মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা, নামখানা ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা সুব্রত মল্লিক, ফ্রেজারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুদীপ মণ্ডল, বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আনন্দসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
একই দিন রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের কোস্ট গার্ডের উপস্থিতিতে বাংলাদেশে আটক ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকেও ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে আটক হয়েছিলেন। এ সময় দুটি ভারতীয় ট্রলারও ফেরত দেওয়া হয়, যার একটি পশ্চিমবঙ্গের এবং অন্যটি অন্ধ্রপ্রদেশের বলে জানা গেছে।
সুন্দরবন শ্রমজীবী মৎস্য ইউনিয়নের মহাসচিব সতীনাথ পাত্র জানান, এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিতভাবে চলমান একটি মানবিক উদ্যোগ। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটক মৎস্যজীবীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানেই এই হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়।