৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল। তবে যে মানুষটিকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট গত দুই দশক আবর্তিত হয়েছে, সেই সাকিব আল হাসান কেন জানি দেশের মাটির বাইরেই রয়ে গেছেন।
কিন্তু এবার মাগুরার সাহা পাড়ায় সাকিবের পৈতৃক ভিটেয় যে ব্যস্ততা চোখে পড়ছে, তাতে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক—তবে কি সব জল্পনা কাটিয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছেন?
মাগুরার সাহাপাড়ায় সাকিব আল হাসানের বাড়িটি গত কয়েক মাস ধরেই অনেকটা নিস্তব্ধ ছিল। কিন্তু হঠাৎই পাল্টে গেছে সেই দৃশ্যপট। বাড়িতে এখন চলছে ধোয়া-মোছা আর সংস্কারের ধুম। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে বাড়ির প্রধান ফটকের কাজ। লোহার গেটে নতুন করে ঝালাই আর রঙের প্রলেপ পড়ছে।
সেখানে কর্মরত ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মাসুদের কথা শুনলে সাকিব ভক্তদের মনে আশার প্রদীপ জ্বলে উঠতে বাধ্য। তিনি সরাসরিই বললেন, শুনেছি সাকিব আল হাসান বাড়িতে আসবেন, তাই প্রধান গেটটি মেরামতের কাজ করছি।
কদিন আগেই বিসিবি সভাপতি ও নির্বাচক প্যানেল থেকে সবুজ সংকেত মিলেছে। ফিট থাকলে সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনার ঘোষণাও দিয়েছে বোর্ড।
যদিও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দিন এই ঘোষণা আসায় অনেকেই একে ‘ইস্যু ডাইভারশন’ বা দৃষ্টি সরানোর কৌশল বলে সমালোচনা করেছিলেন।
তবে মাগুরার চিত্র বলছে, আলোচনা কেবল ক্রিকেটীয় মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এবার ঘরের দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে সাকিব বিদেশের মাটিতেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বেড়াচ্ছেন। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি ও নিরাপত্তা জটিলতার যে শঙ্কা ছিল, বিসিবির বর্তমান অবস্থানের পর সাকিব ফিরলে তা দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় এক স্বস্তির খবর হবে।
এদিকে, বাড়িতে সংস্কার চললেও সাকিবের পরিবারের কোনো সদস্য এ নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি তাদের। হয়তো সাকিবের ফেরার বিষয়টি তারা চমক হিসেবেই রাখতে চাইছেন, অথবা নিরাপত্তার খাতিরেই বজায় রাখছেন এই গোপনীয়তা।