সীমান্তে উত্তেজনা কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, এবার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এক বিপর্যয়ের মুখে ভারতে আয়োজিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
দেশটিতে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভারতের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে টুর্নামেন্টটি অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে পাকিস্তান।
সাম্প্রতিক পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে নিপাহ ভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কলকাতা শহরের নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতাল।
জানা গেছে, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইতিমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে অন্তত ১০০ জনকে কঠোর কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
আরও জানা গেছে, আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে ওই হাসপাতালের একজন নার্সও সংক্রমিত হয়েছেন, যার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ভারত ফেরত যাত্রীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস: কেন এটি এত ভয়াবহ?
নিপাহ একটি জ্যুনোটিক ভাইরাস (প্রাণী থেকে মানুষের দেহে ছড়ায়)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। এর ভয়াবহতার কিছু মূল কারণ হলো…
উচ্চ মৃত্যুহার: নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি, যা প্রায় ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত হতে পারে।
লক্ষণ ও জটিলতা: সংক্রমণের শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশির মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত তা এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) এবং তীব্র শ্বাসকষ্টে রূপ নেয়।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: যারা সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাদের অনেকের মধ্যে পরবর্তী সময়ে খিঁচুনি বা ব্যক্তিত্ব পরিবর্তনের মতো স্নায়বিক সমস্যা থেকে যায়।
কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই: এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। মূলত সাপোর্টিভ কেয়ার বা উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হয়।
এদিকে, ভারতজুড়ে নিপাহর এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে বিদেশি দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যে আইসিসি-র কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
তাদের দাবি, খেলোয়াড় ও দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ভারতকে আয়োজক দেশ হিসেবে বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হোক।