পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি করে রাখা নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলীয় এলাকায় রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ৯ জানুয়ারি মধ্যরাত ৩টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট বাহারছড়া, স্টেশন ইনানী, হিমছড়ি, কক্সবাজার, মহেশখালী এবং কোস্ট গার্ড জাহাজ শ্যামল বাংলার সমন্বয়ে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে আভিযানিক দল একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দিলে বোটটি সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আভিযানিক দল বোটটি ধাওয়া করে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ সংলগ্ন এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে আটককৃত বোটে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় নারী ও শিশুসহ ২০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয় এবং ৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও আটককৃত মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।