জামালপুরে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে স্বামীকে মারধর ও বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের একটি গ্রামে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জামালপুর সদর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হলেন- সদর উপজেলার চান্দের হাওড়া গ্রামের মো. ফরহাদ মিয়া (৩০), একই গ্রামের মো. আজম (২৪), রাহাত আলী রৌদ্র (২৪), পশ্চিম আড়ংহাটি গ্রামের মো. সুমন উরফে পঁচা (২৪) ও গগণপুর গ্রামের মো. পলাশ।
অভিযুক্তদের মধ্যে ফরহাদ, রৌদ্র ও আজমকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী দিনমজুর। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রাহাত আলী রৌদ্র ভুক্তভোগীর বাড়িতে এসে তার স্বামীকে কাজের কথা বলে বলে ডেকে নিয়ে যান। সে সময় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ তাদের লক্ষ্য করে পিছু নেয় এবং পাশের মেষ্টা ইউনিয়নের চান্দের হাওড়া এলাকার ঝিনাই নদীর পাড়ে পৌঁছে দেখতে পান তার স্বামীকে অভিযুক্ত পাঁচজন গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী তার স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ফরহাদ ও আজম তার ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং টেনে হিঁচড়ে পাশের ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে অভিযুক্ত রৌদ্র ও সুমনও সেই নারীকে ধর্ষণ করেন। আরেক অভিযুক্ত পলাশ সে সময় তার স্বামীকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ধরে রাখেন।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, ধর্ষণের পর ওই গৃহবধূর স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে সিমকার্ড বের করে নেন অভিযুক্তরা। এরপর ওই সিমকার্ড অভিযুক্ত একজনের মোবাইলে নিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীর দেবরকে ফোন দিয়ে টাকা দাবি করেন।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ধর্ষণের ঘটনা যেন প্রকাশ না পায়, এইমর্মে ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেন।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন থেকে মাদকসেবন ও মাদকবিক্রিসহ নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষরা অনেকটাই জিম্মি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তাদের।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর রাতে জামালপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ফরেনসিক মতামত সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।