বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

হিজাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে সিডনিতে গ্রেপ্তার ১

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্কুল ছুটির পর বাসে করে বাড়ি ফিরছিল ১৩ বছরের শিক্ষার্থী জান্না। তার পরনে ছিল স্কুলের পোশাক ও হিজাব। সিডনির চলন্ত সেই বাসেই তাকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘অভিবাসী কুকুর’ বলে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ঘটনার পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রিনএকারের একটি বাড়ি থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। তাকে ব্যাংকসটাউন পুলিশ স্টেশনে নিয়ে শারীরিক ক্ষতির ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে অনুসরণ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। জামিন না পাওয়ায় বুধবার ব্যাংকসটাউন স্থানীয় আদালতে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্ট্রাথফিল্ড রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসে ১৩ বছরের ওই কিশোরীসহ কয়েকজন যাত্রীকে এক ব্যক্তি মৌখিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে ওই ব্যক্তি স্ট্রাথফিল্ডের লিভারপুল রোডে বাস থেকে নেমে যান।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি ও এসবিএস জানিয়েছে, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্না ঘটনার সময় স্কুলের পোশাক ও হিজাব পরা ছিল। বাসে হিজাব পরা আরেক স্কুলছাত্রীর অজান্তে ওই ব্যক্তি ছবি তুলছিলেন বলে তার সন্দেহ হয়। জান্না বিষয়টি ওই ছাত্রীকে জানালে তাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে জান্নাকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘অভিবাসী কুকুর’ বলে ডাকতে শোনা যায়। আরও অপমানজনক ভাষাও ব্যবহার করা হয়। গালিগালাজের মধ্যেই জান্না বারবার জানায়, তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। পরে এবিসিকে সে জানায়, তার জন্ম অস্ট্রেলিয়ায় এবং সে কখনো দেশটির বাইরে যায়নি।

জান্নার মা রুলা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার মেয়ে অন্য এক স্কুলছাত্রীর ছবি তোলার বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ করার পরই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। বাসে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী থাকলেও একজন নারী ছাড়া আর কেউ মেয়েটির পাশে দাঁড়াননি বলে জানান তিনি। ঘটনার পর জান্না ও তার মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলাবিষয়ক বিশেষ দূত আফতাব মালিক। মুসলিম স্কুলশিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবহন কর্তৃপক্ষকে তার দপ্তরের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্সও ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুসলিম নারী ও মেয়েদের হিজাব পরে বাসে যাতায়াত, স্কুলে যাওয়া কিংবা রাস্তায় চলাচলের সময় হেনস্তা বা ভয়ভীতির শিকার না হওয়ার অধিকার রয়েছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গণপরিবহনে প্রত্যেকের নিরাপদে যাতায়াত এবং নিজেকে নিরাপদ মনে করার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ, পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তারা কাজ করে।

ইসলামোফোবিয়া রেজিস্টার অস্ট্রেলিয়ার হিসাবে, গত তিন বছরে তাদের কাছে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার সাপ্তাহিক গড় ২ দশমিক ৫টি থেকে বেড়ে ১৮টিতে পৌঁছেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এ বৃদ্ধির হার ৬১২ শতাংশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102