সিরাজগঞ্জে কথিত ভুয়া ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম মিঠুকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সিরাজগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ দণ্ডাদেশ দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় মামলা নম্বর ৯৬/২০২৬। মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. তাসলিমা জান্নাত। মামলায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২২ ধারায় নাজমুল ইসলাম মিঠুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং পাঁচ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
নাজমুল ইসলাম মিঠু সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মিঠু ডাক্তার’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের স্বীকৃত ডিগ্রি বা বৈধতা ছাড়াই তিনি রোগী দেখে আসছিলেন এবং চিকিৎসার নামে অর্থ আদায় করতেন।
এর আগে চলতি বছরের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসান আহমেদ খান কথিত ভুয়া ডাক্তার নাজমুল ইসলাম মিঠুকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠু প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখতেন এবং রোগীপ্রতি ফি নিতেন। এতে শুধু রোগী দেখার ফি বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করতেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এছাড়া তার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ফার্মেসি থেকে প্রতিজন রোগীর কাছে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি করা হতো। স্থানীয়দের দাবি, ফার্মেসি থেকে মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করতেন মিঠু।
এছাড়া তার চিকিৎসাকেন্দ্রে দুটি কক্ষে রোগীদের জন্য বিছানা রাখা ছিল এবং সেখানে নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি। স্থানীয় কয়েকজন রোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা মিঠুর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন।
রোগী রহিমা বেগম বলেন, ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ থেকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়।
আরেক রোগী আলতাফ অভিযোগ করে বলেন, বুকের ব্যথা নিয়ে মিঠুর কাছে গেলে তার ফার্মেসি থেকে জ্বর ও মাথাব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়। এতে ওই ব্যক্তির চিকিৎসক পরিচয় নিয়ে তার সন্দেহ হয়।
এদিকে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করা হলে মিঠুর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি নেই এবং তার প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।