ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তিতাস নদীর মুক্ত জলাশয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২৮৬ কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরশহরের বড়বাজার ঘাট এলাকায় তিতাস নদীতে ১২১ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর, আখাউড়া স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, আখাউড়া থানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে পোনা অবমুক্ত করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি মৎস্য খামার থেকে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে মোট ২৮৬ কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে ৫০ কেজি, আখাউড়া থানার পুকুরে ৩৫ কেজি, ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের পুকুরে ৩০ কেজি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুকুরে ৩০ কেজি এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ২০ কেজি পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। বাকি ১২১ কেজি পোনা তিতাস নদীর মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, এ বছর আখাউড়া উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে সরকারি ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওয়াহিদুল রহমান মজুমদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুব্রত গোস্বামী, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন আব্দুলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আখাউড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সুফলভোগী উপস্থিত ছিলেন।