পটুয়াখালীর বাউফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মী যুবদল পরিচয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে সাইদুর রহমান নাজমুল নামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়ি পাইকা গ্রামের মৃত ইউসুফ প্যাদার ছেলে সাইদুর রহমান নাজমুল একসময় জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি হাসান শিকদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলেও স্থানীয়দের দাবি।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি পটুয়াখালী শহর ছেড়ে বাউফলে গিয়ে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদারের বাসার কাছাকাছি এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরবর্তীতে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়ে নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন নাজমুল। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদারের সঙ্গে তোলা ছবি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে নাজমুল নিজের রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছেন। তবে এসব ছবির মাধ্যমে তিনি নির্দিষ্ট কী ধরনের ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাইদুর রহমান নাজমুল। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমি কখনোই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। বর্তমানে যুবদলের সঙ্গেও আমি যুক্ত নই।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ বলেন, নাজমুলকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সে ছাত্রদলের কোন কর্মী নয়। তাই ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের কোন সুযোগ নেই। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।