রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

গুরুদাসপুরে হাটের সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পুরুলিয়া হাটের সরকারি জায়গা দখল করে তিনটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলা প্রশাসন নির্মানাধীন একটি ঘর ভেঙ্গে অন্যদের নির্মান সামগ্রী সরিয়ে নিতে বললেও সেগুলো এখনও অপসারণ করা হয়নি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ১১ টার দিকে সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের পুরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার পশ্চিম পাশে মির্জা মাহমুদ নদীর পার ও হাটের সরকারী জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মানের জন্য ইট,বালি, খোয়া এনে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

আইন অমান্য করে নজরুল ইসলাম রঞ্জু, কালাম ফকির, বেল্লাল খাঁ নামের স্থানীয় তিন প্রভাবশালী হাটের সরকারী জায়গায় স্থায়ী স্থাপনা নির্মানের জন্য নির্মান সামগ্রীগুলো এনেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে সহকারী কমিশনার (ভুমি)’নেতৃত্বে নির্মানাধীন একটি স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা ও বাকিদের নির্মান সামগ্রী সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিলেও তারা তা সরিয়ে নেননি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গা ঢাকা দেন।

হাট বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ এর বিধিমালা ২০২৫ এ বলা আছে, হাট ও বাজারের সরকারি খাস জমিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মান করা বা নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। কোন স্থাপনা নির্মান হলে তা সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত হবে। অনুমতি ছাড়া স্থাপনা নির্মানের জন্য অনধিক এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

দুই যুগধরে মোন্তাজ, আজাদ, চাঁদ মোহাম্মদ, সবুজ, দলীয় ক্লাব, বাবলু, আবু সোনার, জয়নাল সরকার, নজরুল সরকারসহ বেশ ক’জন সরকারী জায়গা দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মান করে প্রতিমাসে ভাড়া আদায় করছেন। তাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ জায়গা যেখানে অন্তত ২০ টি আধাপাকা দোকান ঘর।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, যারা নতুন ঘর নির্মান করছেন কিংবা পুর্ব থেকে যারা দখল করে আছেন তারা এলাকার প্রভাবশালী। পুর্ব দখলকৃতরা ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অংকের সিকিউরিটি নিয়ে দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। আবার প্রতিমাসে ভাড়াও উত্তোলন করছেন। এতে প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়রা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা দাবি করে বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পন্য বিক্রি ও ব্যবসায়িক স্বার্থে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক। অথবা নিয়ম-নীতি মেলে অবকাঠামো নির্মান হলে সরকার রাজস্ব পাবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি রোদ-বৃষ্টি হতে রক্ষা পাওয়ার জন তাদের জন্য সরকারীভাবে যেন শেড তৈরি করে দেওয়া হয়। তারা টেল দিয়েই সেখানে ব্যবসা করবেন।

সরকারি জায়গা দখল ও স্থাপনা নির্মান প্রসঙ্গে বেল্লাল খাঁ জানান, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি দোকান নির্মান বন্ধ রেখেছেন। নির্মান সামগ্রীও সরিয়ে নিচ্ছেন।

পুরাতন স্থাপনা মালিক বাবলু ও আবু সোনার জানান, তারা ঘর সরিয়ে জায়গা খালি করার কোন নোটিশ বা সরকারি নির্দেশনা পাননি। নোটিশ পেলে সবাই সরিয়ে নিলে তারাও সরিয়ে নেবেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আসাদুল ইসলাম বলেন, একটি নতুন স্থাপনা ভেঙ্গে দেওয়া ও আরও দুজনকে নির্মান সামগ্রী সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। অন্যদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102