কুমিল্লার মুরাদনগরে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহতের স্ত্রীও আহত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের পেন্নই গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি সফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন এবং পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে।
তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য ও মুরাদনগর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা আনোয়ারের বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদনগর আসনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হওয়ার পরদিন থেকে এলাকা ছাড়েন সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ আনোয়ার মেম্বার। তার বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। তিনি ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন। অনুমতি ছাড়াই মানুষের জমিতে ড্রেজার লাগিয়ে মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এই ক্ষোভে জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনসহ এলাকাবাসী একাধিকবার তার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আনোয়ার মেম্বার বাড়িতে ফিরতে চাইলেও এলাকাবাসীর বাধার মুখে তিনি ফিরতে পারেননি। ২০২৩ সালে ড্রেজারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলার অভিযোগও রয়েছে আনোয়ার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপনে গ্রামে প্রবেশ করে আনোয়ার হোসেন স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে গভীর রাতে সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর নেতৃত্বে সশস্ত্র দল ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে তারা আনোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এসময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী মোমেনা বেগমকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমের দাবি, তার স্বামী আনোয়ারের কাছে ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুরা ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ, কবির মুন্সী, জালাল ও পিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের নম্বর বন্ধ থাকায় কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, আনোয়ারের বিরুদ্ধে মারামারি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। রাত ৪টার দিকে আমরা খবর পাই আনোয়ার মেম্বারকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।