বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিদায়ী কর্মকর্তার বদলি, নতুন কর্মকর্তার পদায়ন, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং দপ্তরে অতিরিক্ত তালা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে বিদায়ী কর্মকর্তার বদলি স্থগিত চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগের পদে বহাল রাখার সুপারিশ করেছেন।
জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন-৩ শাখার এক আদেশে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে স্ববেতনে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে বদলিপূর্বক পদায়নের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এর পরদিন, ২৫ আগস্ট দীর্ঘদিন ধরে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. রফিকুল ইসলামকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
বদলির আদেশে ক্ষুব্ধ রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন। কোনো পূর্ববিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাকে বদলি করা হয়েছে। তার দাবি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগেই ২৪ আগস্ট তার দপ্তরে অনধিকার প্রবেশ করে অতিরিক্ত তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনও পদক্ষেপ নিয়েছে। দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, রফিকুল ইসলামের বদলির আদেশ রহিত বা স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বিদায়ী কর্মকর্তার বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বদলি-পদায়ন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে বিষয়টিতে রাজনৈতিক সুপারিশও যুক্ত হয়েছে। বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি ডিও লেটার দিয়েছেন।
ওই চিঠিতে অসুস্থ রফিকুল ইসলামকে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে আগের মতো বহাল ও পদায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
একদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি ও নতুন পদায়নের আদেশ, অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের বদলি স্থগিতের আবেদন এবং সংসদ সদস্যের সুপারিশ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।