রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে বাজুস চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রার্থীতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে জেলা বাজুসের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমির কর্মকারের প্রার্থীতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পরেশ কর্মকার আপীল করেছেন৷ পরেশ কর্মকার দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী সমীরের প্রার্থীতা বৈধ নয়। তিনি পূর্বে টানা দুইবার বাজুসের দুই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তৃতীয়বার তিনি প্রার্থী হতে পারেন না৷ 

জানা গেছে, সমীর কর্মকার ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মনোনীত সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪-২৬ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। টানা দুইবার তিনি দুই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই ২০২৬-২৮ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পরেশ কর্মকার।

অন্যদিকে, সহদেব কুরিকে নিয়েও আপীল বোর্ডে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০১৯ সালে হওয়া কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০২৪-২৬ নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি ছিলেন। ২০২৬-২৮ নির্বাচনে তিনি এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন।

তবে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত বিষয়ে রায় দিয়েছে নির্বাচনী আপীল বোর্ড। রায়ে নির্বাচনী আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, সদস্য শিল্লী আক্তার ও ইসমাইল হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে পরেশ কর্মকারের অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে একটি মামলায় দুই বছরের সাজার রায় হয়েছে উল্লেখ করে সমীর কর্মকারও আপীল বোর্ডে অভিযোগ করেন। তিনিও প্রার্থীতা বাতিল ছেয়েছেন। কিন্তু পূর্বে ওই সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ আপীল করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন বাজুসের নির্বাচনী অপীল বোর্ড।

এদিকে পরেশ কর্মকার অভিযোগ করেন, সমীর কর্মকারের বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগ এনেছেন, সেটি খারিজ করার মতো অভিযোগ নয়। রহস্যজনক কারণে তার অভিযোগটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। সমীর পূর্বে দুইবার বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অভিযোগটি আপীল বোর্ড পূর্ণাঙ্গভাবে আমলে না নিয়ে সমীরের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তিনি আপীল বোর্ডে আপীল করার পর ১ সেপ্টেম্বর আপীল বোর্ডের কর্মকর্তারা শুনানির জন্য উভয়কে নোটিশ করেন। রহস্যজনক কারনে একই সময়ে উভয় উপস্থিতির সময় না দিয়ে পরেশকে সকাল ১০ টায় এবং সমীরকে বিকেল ৪ টায় উপস্থিত হতে বলা হয়। পরেশ যথাসময়ে উপস্থিত হলেও এদিন সমীর বিকেল ৪টায় উপস্থিত না হয়ে দাপ্তরিক সময়ের পার হয়ে বিকেল ৫ টার পরে উপস্থিত হন। যেটি আইন বিরোধী বলছেন পরেশ কর্মকার৷ তাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে চেয়রাম্যান প্রার্থী সমীর কর্মকার ও তার প্যানেলের সকল প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে জেলা শহরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ফুড গার্ডেনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী এবং বাজুস সদস্যদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয় এবং নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাজুসের নির্বাচনী আচরণবিধি ২ অনুযায়ী অনুযায়ী কোন প্রার্থী একক বা দলবদ্ধভাবে কোন হোটেল, রেস্তোরাঁ বা কমিউনিটি সেন্টারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্বাচনী ও পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান, ভোটারদের আপ্যায়নের আয়োজন এবং এতে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না৷ কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে নির্বাচনী আলোচনা এবং নৈশভোজের আয়োজন হওয়াকে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সাধারণ ভোটাররা।

যদিও এ বিষয়ে চেয়ারম্যানপ্রার্থী সমীর কর্মকার দাবি করেছেন, ওই সভাটি কোন নির্বাচনী সভা ছিল না৷ তিনি জানান, একটি পক্ষ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাই ওই বিষয়ে তারা একটি প্রতিবাদ সভা করেছে। তবে কারা এবং কেন নির্বাচন বানচাল করছে, সে বিষয়ে তিনি কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী পরেশ কর্মকার বলেন, কারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে আমরাও দেখতে চাই। যদি তারা সুনির্দিষ্টভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের দেখিয়ে দিতে না পারে, তাহলে বুঝে নিতে হচ্ছে ওই পক্ষই নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাইতো তারা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে সভা সমাবেশ করছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102