দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে শুরুতে কঠিন অবস্থা কাটিয়ে প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংসের ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা নিয়ে শেষ দিনে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে দেন তাওহীদ হৃদয়। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে তিনি শুধু দলকে ম্যাচে ফেরাননি, বদলে দিয়েছেন ম্যাচের গতিপথও।
তৃতীয় দিন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম দ্বিশতক পূর্ণ আর চতুর্থ ও শেষ দিনে সেই ইনিংসকে আরও বড় করে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন হৃদয়। একই সঙ্গে গড়েন দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করার কীর্তি এখন তাওহীদ হৃদয়ের দখলে। হৃদয় তামিম ইকবালের ৩৩৪ রান টপকে করেছেন ৩৫০।
রেকর্ড করার পর নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, এমন একটি ইনিংস খেলতে চান জাতীয় দলের হয়েও। ‘সত্যি বলতে এই ইনিংস আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। অসংখ্য শুভকামনা পেয়েছি, এখনো পাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’
ম্যান অব দ্য ম্যাচের ট্রফি নিয়ে ‘বারবার মনে হচ্ছিল কোনো একদিন এমন একটি ইনিংস জাতীয় দলের হয়ে খেলব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ এবং আমার মায়ের দোয়া থাকলে সব সম্ভব’, আরও যোগ করেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার।
রেকর্ডগড়া ইনিংসের প্রশংসা করে তামিম ইকবাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হৃদয়ের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ যেকোনো জায়গায়, যেকোনো পর্যায়ের, যেকোনো প্রেক্ষাপটে ৩৫০ রানের ইনিংস খেলতে পারা দারুণ ব্যাপার। সেই ইনিংস যদি হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়, তাহলে সেটিকে বলতে হয় অসাধারণ।’
তামিম আরও লিখেছেন, ‘বলা হয়, রেকর্ড গড়া হয় ভাঙার জন্যই। আমি খুবই খুশি যে, আমার রেকর্ডটি ভেঙে গেছে। ইতিহাস গড়ার জন্য অভিনন্দন তাওহিদ হৃদয়।’
হৃদয়ের এই অর্জনকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না তামিম। তার মতে, দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩৫০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা বাংলাদেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ারও একটি প্রতীক।