সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ সীমান্তে ৮০৫ কিমি কাঁটাতারের বেড়া দিল ত্রিপুরা প্যারিসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: হবিগঞ্জের শিশু নাহিল নিহত, আহত ৭ ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও মেরেছি’ সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর মুখে কাপড় বেঁধে বের হলেন বিরোধীদলের নেতারা পুঠিয়ায় শত হতদরিদ্র পরিবারের পাশে প্রশাসন, বিতরণ শুকনো খাবার প্রেস ক্লাবের সামনে ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি মৃত ভেবে শোক পালনের পর জীবিত উদ্ধার করা হলো বৃদ্ধাকে অক্ষয়-শিল্পা প্রায় বিয়ে করে ফেলেছিলেন’ নড়াইলে মাদরাসা শিক্ষার্থী বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি-পদায়ন ঘিরে জটিলতা, এমপির ডিও লেটার

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই তাদের দেশে ফেরানো হবে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।

উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার অটোচালক জনি এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মো. মোশাররফ হোসেন। তারা দুজনই দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার হন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন জনি। বিমানবন্দর এলাকায় এক দালালের সঙ্গে পরিচয়ের পর ভালো চাকরির আশ্বাসে তাকে টেকনাফে নেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে জোর করে একটি নৌকায় তুলে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।

প্রায় ১০ দিনের উত্তাল সমুদ্রযাত্রা শেষে তারা থাইল্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে দুর্গম বনাঞ্চলের একটি বন্দিশিবিরে চার মাস ধরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। খাবারের অভাব, শারীরিক নির্যাতন ও অসুস্থতায় তাদের অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণও দাবি করে পাচারকারীরা।

জনির দিনমজুর বাবা মো. ফুরকান টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়। পরে অবৈধভাবে তাকে মালয়েশিয়ায় এনে আরও দুই মাস আটকে রাখা হয়। একইভাবে পাচারের শিকার হন মো. মোশাররফ হোসেনও।

গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে অসুস্থ অবস্থায় জনি ও মোশাররফকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় পাচারকারী চক্র।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। দূতাবাসের অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে তাদের রাখা হয়।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হবে। তাদের চিকিৎসা ও প্রত্যাবাসনের সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে দূতাবাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি পথ দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়। সচেতনতার অভাবে গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ দালালদের প্রলোভনে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। অনেক পরিবার ভিটেমাটি বিক্রি বা ঋণ নিয়ে টাকা দেওয়ার পরও স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকট মোকাবিলায় সীমান্তে কঠোর নজরদারি, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102