দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। একইসঙ্গে জরুরি অধিবেশন আহ্বানের দাবি উপেক্ষা, গণভোটে জনগণের দেওয়া সংস্কারের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি এবং বেসরকারি সদস্য দিবসে সরকারি বিল উত্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার ও নির্বাচনব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তত ২০টি সংস্কার-সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স ল্যাপস বা নিষ্ক্রিয় হতে দেওয়া হয়েছে।
এসব সংস্কারমূলক আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কার্যকর না থাকলে অতীতের কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনরুত্থানের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বেসরকারি সদস্য দিবসে সরকারি বিল সংসদীয় কার্যপ্রণালি নিয়েও আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় নেতা। তার দাবি, বৃহস্পতিবারের অধিবেশন ছিল বেসরকারি সদস্য দিবস। এ দিনে সাধারণ সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত নোটিশ, প্রস্তাব ও বেসরকারি বিল আলোচনার সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু, তা পাশ কাটিয়ে সরকারি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আনা জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের কোনো আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সংস্কারের মৌলিক দাবি ও জনগণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে একতরফা সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হতে তারা রাজি নন।
এ সময় স্পিকার সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষকে সংসদে থেকে কার্যকর বিতর্কের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বিরোধী সদস্যদের অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ না করারও অনুরোধ করেন তিনি।
তবে, স্পিকারের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে চলমান অধিবেশনে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও সংস্কার প্রশ্নে বিরোধী দলের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এলো।