নারী যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ব্যস্ত রুটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও বগুড়াতেও প্রাথমিকভাবে এই সেবা বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ গোলাপি রঙের এই বাস সার্ভিসের অন্যতম বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু যাত্রী নন চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। ফলে এটি একদিকে নারীদের যাতায়াতে নিরাপত্তা ও স্বস্তি বাড়ানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে পরিবহন খাতে নারীর কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন নারীদের জন্য চালু করা বাসের রঙ পিংক বা গোলাপি কেন?
এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ সব ক্ষেত্রে উল্লেখ না থাকলেও গোলাপি রঙ ব্যবহারের কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে।
১. সহজে আলাদা করে চেনা যায়
ব্যস্ত সড়ক বা যানজটের মধ্যে স্বতন্ত্র রঙের কারণে বাসটি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। দূর থেকেই নারী যাত্রীরা বুঝতে পারবেন এটি তাদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ বাস সার্ভিস।
২. নারী নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রতীক
আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নারী অধিকার, সচেতনতা ও সামাজিক প্রচারণায় গোলাপি রঙের ব্যবহার দেখা যায়। সেই ধারণা থেকেই নারীদের জন্য নির্ধারিত পরিবহনকে আলাদা পরিচিতি দিতে পিংক রঙ বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
৩. নিরাপত্তার বার্তা
নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও নানা ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ পিংক বাস সার্ভিসের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও নারী-বান্ধব পরিবেশের বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
৪. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
রাস্তায় স্বতন্ত্র রঙের এই বাস চলাচল সাধারণ মানুষের মধ্যেও নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং গণপরিবহনে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি গোলাপি রঙকে নারীর সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাটি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, পিংক বাসের মূল লক্ষ্য শুধু রঙের মাধ্যমে নারীদের আলাদা করা নয় বরং সহজ শনাক্তকরণ, নিরাপদ যাতায়াতের বার্তা এবং নারী-বান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
নারীদের জন্য বিশেষ এই বাস সার্ভিস সফলভাবে পরিচালিত হলে তা দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নারী যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।