বাগেরহাট সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি এবং ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ণ না করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সচেতন মহলের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা যথাযথভাবে বজায় রাখা হয়নি। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।
১নং কাড়াপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাফিন আলম রাকিব ফেসবুক পোস্টে আগামী শনিবার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদে উপজেলা ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে নিয়োগে অনেক দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে। যারা এই কাজের জন্য উপযুক্ত তাদের বাদ দিয়ে চিহ্নিত বেশ কিছু আওয়ামী দোসর ও জামাতের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেনি আর করবেও না।
সরকারি পি.সি. কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সেখ তানভীর হোসেন বলেন, দলের সংকটে ছাত্রদল সবসময় প্রধান ভূমিকায় ছিল, কিন্তু প্রাপ্তির বেলায় ছাত্রদল সবকিছু থেকে বঞ্চিত। এভাবে আর কত অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি চলবে।
নাম প্রকাশ না করে এক ছাত্র নেতা বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশি নির্যাতন ও হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
শেখ আলামিন ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, বেশির ভাগ ইউনিয়নে আ’লীগের লোক দায়িত্ব পেয়েছে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে বেশি।
বিএনপি নেতা আনোয়ার খান ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন খানপুর ইউনিয়নে বেশিরভাগই বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী। কিন্তু দুঃখের বিষয় ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সুবিধাবাধিদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য।
আবেদনকারী সাদমান হাফিজ শুভ ও মিঠুন অভিযোগ করেন, ভাইভাতে যারা সঠিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, তাদের সুপারভাইজার বা তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহনাজ পারভীন বিথী’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।