রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

রামিসা হত্যার রায় কার্যকর নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রতিটি ধাপ পার করেই রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। আমরা সবাই এই রায়ে সন্তুষ্ট। আশা করি, এই রায়ের বিষয়টি উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে।

রায় কার্যকর নিয়ে তিনি বলেন, আইনের স্তরগুলো পার না করে রায় কার্যকর করা হলে প্রশ্ন উঠবে। তাই দোষী যদি উচ্চ আদালতে যেতে চায়, সেখানেও সরকার আইনি ধাপ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তবে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এতবড় অমানবিক ঘটনার এত দ্রুত রায় দেশে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এ সময় আসাদুজ্জামান জানান, রামিসা, আছিয়া, রাজন, রাকিবসহ স্পর্শকাতর ও আলোচিত শিশু হত্যা ও সহিংসতার মামলাগুলো এখন থেকে উচ্চ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে আজ (৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ না দিলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এদিন বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন। রায় পাঠকালে পর্যবেক্ষণে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, ‘ধর্ষণ শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে।’ বিচারক উল্লেখ করেন, সুরতহাল রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আদালতে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্নাকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকে এজলাসে তোলা হয়েছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর পৈশাচিক উপায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

উল্লেখ্য, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102