ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএমের মতো দলগুলো যতটা না লাফালাফি করছে, তার থেকে বেশি লাফালাফি করছে বাংলাদেশের জামায়াতিরা।
শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে বাংলাদেশের জামায়াতিদের চিড়বিড়ানি (অস্বস্তি) অনেক বেশি হয়ে গেছে। আরে ভাই আমি ভয় পাওয়ার লোক না।’সোমবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর আসনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওই আসনের বাসিন্দারা। সেখানে উপস্থিত হয়ে এ মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়দের দরজা দেখিয়ে দেওয়া, অনুপ্রবেশকারীদের হটাও… যাও যেখান থেকে এসেছিলে সেই রাস্তা দিয়ে ফেরত যাও। বাংলাদেশে যাও।’শুভেন্দু বলেন, ‘আমি ভয় পাওয়ার লোক না, মাথা নোয়ানোর লোকও না। ভয় পাওয়ার বা দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরর্ণ করার কাজ বিজেপির এই মুখ্যমন্ত্রীর। সবার আগে দেশ। দেশকে সুরক্ষিত রাখতে যা দরকার বিজেপির এই সরকার করবে।’
সীমান্ত সুরক্ষিত করার ব্যাপারে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র।
প্রথমে ভোটার তালিকায় শনাক্ত হয়ে গেছে, এরপরে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল হয়ে গেছে। এবার তাদের ফেরত পাঠানোর সময় এসেছে। প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে।’সোমবার (১৮ মে) কলকাতার পার্ক সার্কাসে পুলিশ সদস্যদের উপরে হামলা নিয়ে করা হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের এর ফল ভুগতে হবে। পুলিশের উপর যদি ইট, পাথর ছোড়া হয়, তবে তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার কাজ বিজেপির সরকার করবে।
আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছিল। ২০০ শতাংশ উসুল করব। যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে এই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।’
এরমধ্যে সোমবার মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে সব প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা দেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর ফলে বন্ধ করে দেওয়া হলো ইমাম, মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতাও।
সেদিন নিজের ভাষণে সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘কোনো সরকারের কাজ কি ইমাম, মোয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান করা? না শিক্ষার ব্যবস্থা উন্নতি করা? না তাদের চাকরি প্রদান করা? আজকে আমরা ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে ধর্মীয় ভিত্তিতে প্রদেয় সমস্ত ভাতা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছি।যে রুপি ভাতায় দেওয়া হত, তা এখন বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ প্রকল্পে দেওয়া হবে। এর ফলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পাবেন। কিন্তু বাংলায় তোষণের রাজনীতি চলবে না।’
সদ্য শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এজন্য ভবানীপুরের বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শুভেন্দু বলেন, ‘ভবানীপুরে গত ১৫ বছরে বিধায়ক কেমন কী কাজ করেছেন তা আপনারা জানতে পারেননি। তবে এখন বুঝতে পারবেন। শুধু ৭৭ ওয়ার্ডে আমি যাব না। আর সব জায়গায় কাজ করব। আপনাদের জন্য একটা নম্বর দিয়ে দেব, সেখানে ফোন করে আপনার সব সমস্যার কথা জানাবেন।’
নিজেকে তিনি সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব। একটু সময় দিন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অহঙ্কার চূর্ণ করে আপনারা আমাকে জয়ী করেছেন, আমি সারাজীবন আপনাদের ভাইয়ের মতো পাশে থাকব।’তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু জানান, মিত্র ইনস্টিটিউশনের চারটি বুথেই হেরেছেন মমতা। প্রত্যেকটিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে।
শুভেন্দুর কথায়, ‘যে নিজের বুথে জিততে পারেন না, তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ। আপনার রাজনৈতিক দিন শেষ। টাটা, বাই বাই, খতম, পুরা খতম করে দিয়েছে।’
এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জিসহ চার ব্যক্তির নাম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এদের একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। তারও সেইসব সম্পত্তিরও তদন্ত হবে। এই মানুষগুলো এতদিন ধরে লুট করে এসেছে। আগামী দিনে এই সমস্ত দুর্নীতিবাজদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারের পাঠানোর কাজ করবে।