নির্বাচনি সংকল্পপত্রের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের ১০ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গের ডবল ইঞ্জিন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তবে সব জল্পনার মাঝেও মহার্ঘভাতা (ডিএ) নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বেতন কমিশনের ঘোষণা সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হলেও ভবিষ্যতে বকেয়া ডিএ ইস্যুতে পদক্ষেপ করা হবে।
কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। পূর্বতন সরকার সেই পথে না হাঁটায় কেন্দ্র ও রাজ্যের কর্মীদের ডিএর ব্যবধান অনেকটাই বেড়ে যায়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কর্মচারীরা রায়ে জয়ী হলেও, পূর্বতন সরকার তাদের প্রাপ্য ডিএ সম্পূর্ণ মেটাতে পারেনি। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারি কর্মচারীদের আশা আরও বেড়েছিল।
গতকাল সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই সবার নজর ছিল নবান্নের বৈঠকের দিকে।
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং বিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।’
তবে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই বিষয়টি আজকের বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল না।
পূর্বতন তৃণমূল সরকার তাদের শেষ অন্তর্বর্তী বাজেটে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই সংক্রান্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। আদালতের নির্দেশ মেনে সরকার বকেয়া ডিএর একটি অংশ মেটালেও এখনো বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়ে গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট বকেয়া ডিএ ছিল প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের আংশিক বকেয়া বাবদ প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবুও এখনো বিপুল অঙ্কের বকেয়া রয়ে গেছে।
এ ছাড়া, শেষ বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করলেও তার বিজ্ঞপ্তি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মূল মামলাকারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা চূড়ান্ত হতাশ। ভেবেছিলাম এবার সত্যিই কিছু একটা হবে। বকেয়া ডিএ নিয়ে তো কিছু হলই না। কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএর ফারাক এখনো ৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে, ডিএ মামলার অন্যতম পিটিশনার সন্দীপ সরকার সদ্য গঠিত সরকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার বক্তব্য, আমরা অবশ্যই অনেক আশা করেছিলাম। তবে এত অল্প সময়ের মধ্যে হয়তো ডিএ ঘোষণা সম্ভব হয়নি। সরকারকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে।
এদিকে জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা মনোজ চক্রবর্তী বলেছেন আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশাবাদী।
পাশাপাশি, ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভায় ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সরকারি আদেশনামা দ্রুত প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।