গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার (৯ মে) উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কান্না জড়িত কণ্ঠে সালমা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিশেষ করে শিশুদের মরদেহ দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। এমন ঘটনা আমি আগে কখনো দেখিনি। এমনটা আমার প্রথম দেখা।’
তিনি বলেন, ‘দুজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকও অবগত আছেন। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। সঙ্গে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (০৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাতার প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বাসায় বেড়াতে আসেন শ্যালক রসুল মোল্লা। রাতে প্রতিবেশীরা পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাফেরা দেখলেও শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয়।
পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পিবিআই, সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফুরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।