ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) মধ্যে ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের সদস্য। এ হিসেবে ৭৪ শতাংশ এমপি কোটিপতি পরিবারের সদস্য। নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ৪৪ জন বা ৮৮ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)।
যে ৩৭ এমপির পরিবারের সম্পদ কোটি টাকার ওপরে, তাদের মধ্যে বিএনপির আছেন ২৭ জন, আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ১০ জন।
এই ৩৭ জন এমপির মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে ২০ জনের পরিবারের। এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ রয়েছে ১৭ জনের পরিবারের।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি হলফনামাও জমা দিয়েছিলেন প্রার্থীরা। সেখানে প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্ভরশীলদের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। ওই হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরে সুজন। মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণের সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।
‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সজল কোরায়েশী।
সুজনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, রাষ্ট্রের সব স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারী এমপিদের মধ্যে ২০ জনের পরিবারের পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন বিএনপির এবং ১ জন জামায়াত জোটের। পরিবারের সম্পদ এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত দেখিয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে বিএনপির ৮ জন এবং জামায়াত জোটের ৯ জন। পাঁচ লাখ টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে দুজনের; তাদের একজন বিএনপির, আরেকজন জামায়াত জোটের। এ ছাড়া বিএনপির একজন সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি।
নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৪৪ জন বা ৮৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)। এর মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর এবং ১৪ জন স্নাতক। উচ্চশিক্ষিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিএনপির ৩২ জন এবং জামায়াত জোটের ১১ জন। স্বতন্ত্র জোট থেকে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্যও উচ্চশিক্ষিত। এর বাইরে দুজন নিজেদের স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন, আর একজন শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি। তারা সবাই বিএনপির।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এমপিদের মধ্যে যাদের পরিবারের আয় সবচেয়ে বেশি, তাদের ১০ জনই বিএনপির। এর মধ্যে বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করে চারজনের পরিবার। তারা হলেন শামীম আরা বেগম, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা ও আন্না মিনজ। এ ক্ষেত্রেও এমপিদের আয়ের তথ্যের পাশাপাশি নির্ভরশীলদের তথ্য যুক্ত করেছে সুজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুজন এমপির পরিবার বছরে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করে। তারা দুজনই বিএনপির। বছরে দুই লাখ টাকার কম আয় দুজনের পরিবারের; তারা জামায়াত জোটের। এ ছাড়া ৭ জন এমপি হলফনামায় আয়ের ঘর পূরণ করেননি।
নির্বাচিত নারী এমপিদের মধ্যে ১০ জনের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে। তাদের মধ্যে কোটি টাকার বেশি ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে চারজনের পরিবারের। তারা সবাই বিএনপির। জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে দুজনের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে।